দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের রেশন বণ্টন নিয়ে যখন মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিরক্ত তখন দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রশাসনের উপরে চাপ তৈরি করল কংগ্রেস। জেলা খাদ্য দফতরে সাত দফা দাবির ভিত্তিতে স্মারকলিপি প্রদান করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস। শুক্রবার দুপুরে জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোপাল দেবের নেতৃত্বে বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিছিল করে আসে কংগ্রেস। খাদ্য দফতরে যাওয়ার আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভ দেখান মিছিলকারীরা। এরপর নিয়ম মেনে চার জনের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দেন জেলা খাদ্য দফতরে।
এদিন জেলা কংগ্রেসের তরফে মূল দাবি ছিল জেলায় কতজনের ডিজিটাল রেশন কার্ড হয়েছে বা হয়নি তার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড না পেয়ে থাকলে তাঁদের সকলকেই খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহের জন্য কুপন দেয়া হয়েছে কিনা জানাতে হবে। লকডাউনের সময় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার যে সব ঘোষণা করেছে সেই ঘোষণা মতো প্রত্যেকে রেশন পাচ্ছেন কিনা সেকথাও জানতে চেয়েছে কংগ্রেস।
২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যাঁরা ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন তাঁদের কত জন এখনও পর্যন্ত সেই কার্ড পেয়েছেন এবং কত জন পাননি সেকথা জানতে চাওয়া হয়েছে। সরকার থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যাঁদের রেশন কার্ড নেই লকডাউনের সময় তাঁদের কুপন দেওয়া হবে। তা দেখালে নির্দিষ্ট পরিমাণে ত্রাণ পাওয়া যাবে। কত জন এই কুপন পেয়েছেন ও কী পরিমাণে ত্রাণ তাঁরা পাচ্ছেন সেকথা জানতে চাওয়া হয়েছে। কেরোসিন তেল সরবহারের ব্যাপারেও একই ধরনের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। যাঁদের পুরনো রেশন কার্ড রয়েছে তাঁদেরও খাদ্যসামগ্রী দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারি রেশন দোকানের বাইরে রাজনৈতিক পোস্টার লাগানো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জেলা কংগ্রেস। খাদ্য নিয়ামকের কাছে এব্যাপারেও জানতে চাওয়া হয়েছে।
দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে রেশন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। কোনও কোনও জায়গায় পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছয় যে পুলিশ-প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। খাদ্যমন্ত্রী এনিয়ে বৈঠক করেন। বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। সরিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যের খাদ্য সচিবকে। তবে সেটা বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। এখন নতুন করে আবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গণবণ্টন নিয়ে প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে কংগ্রেস।
জেলা খাদ্য আধিকারিক (ডিসি) জয়ন্তকুমার রায়কে ফোন করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কংগ্রেস জেলা সভাপতি গোপাল দেব বলেন, “আমরা সাত দফা দাবি জানানোর পরে আধিকারিক জানিয়েছেন তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলি জানাবেন। পাশাপাশি তিনি তিন দিন সময় চেয়ে নিয়েছেন। তিন দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে চিঠি মারফত উত্তর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।”