দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা আতঙ্কের মাঝে এমনিতেই কারও মৃত্যু হলে মৃতদেহ নিয়ে মাঝমধ্যেই ভোগান্তি হচ্ছে পরিবার-পরিজনের। তার মধ্যে যদি মৃতদেহ বদলে যায় তাহলে! এমনটাই ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। অ্যাম্বুলেন্সে ভুল মৃতদেহ তোলায় এই বিপত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার শিড়রায় গ্রামে। জানা গিয়েছে, সেখানকার খাসপাড়ার ৬৮ বছরের আহ্লাদি বিবি কয়েক দিন আগে ডায়রিয়া নিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ প্লাস্টিকে মুড়ে বাড়ি পাঠানো হয়। আর তখনই হয় এই বিভ্রান্তি।
জানা গিয়েছে, আহ্লাদি বিবির মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর আত্মীয়রা কবরে মাটি দেওয়ার জন্য তাঁর বাড়িতে চলে আসেন। দুপুরের মধ্যেই মৃতদেহ চলে আসে। কবর দেওয়ার আগে প্লাস্টিকের মোড়ক খুলতেই সবার চক্ষু চড়কগাছ। কোথায় আহ্লাদি বিবি! এ তো অন্য কারও মৃতদেহ। তারপরেই শুরু হয় হইচই। মৃতদেহটি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কিনা তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়। রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়।
সূত্রের খবর, সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তখনই জানা যায় আসল ঘটনা। মর্গে দুটি মৃতদেহ ছিল। সেগুলিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে ছিল। যারা অ্যাম্বুলেন্সে দেহ তুলেছে, তার ভুল করে অন্যজনের দেহ আহ্লাদি বিবির দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য রাখা অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েছে। আর আহ্লাদি দিবির দেহ গিয়েছে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবশ্য এই সমস্যার সমাধান হয়। বিকেলের দিকে আহ্লাদি বিবির দেহ ফিরিয়ে আনা হয় গ্রামে। তাঁকে কবর দেন পরিবারের লোকেরা। তাঁদের বক্তব্য, এতে হাসপাতালের কোনও ভুল নেই। যারা দেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলেছে তারাই গড়বড় করে দিয়েছে। যে ব্যক্তির দেহ আহ্লাদি বিবির বাড়িতে এসেছিল তিনিও করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি বলে জানতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে গ্রামে।