দ্য ওয়াল ব্যুরো: হকারদের মারামারির জেরে ধাক্কা লেগে বালি ও উত্তরপাড়া স্টেশনের মাঝে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক কিশোরের। তাঁর নাম শুভ্রজ্যোতি পাল, বয়স কুড়ি বছর। এই ঘটনায় পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের সাত দিনের জেল হেফাজত হয়েছে।
ঘটনা গতকালের হলেও তা আজ প্রকাশ্যে এসেছে।
নলহাটিতে যাওয়ার জন্য বিকেল ৩.২৫-এর হাওড়া-মালদা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে চেপেছিলেন শুভ্রজ্যোতি। তিনি কামরার দরজার মুখে বসে মোবাইল ফোন ঘাঁটছিলেন।
ওই কম্পার্টমেন্টে দুই দরজার মাঝে যাতায়াতের পথে বড় ব্যাগ রেখেছিলেন পেশায় জাদুকর চন্দন কুণ্ডু। তিনি ট্রেনে ম্যাজিক দেখান। ওই ব্যাগ রাখা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু হয় ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাপন রায়ের। তাঁদের বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়। ধাক্কাধাক্কিতে এক্সপ্রেসের আধভেজানো দরজা সজোরে বন্ধ হতেই দরজার সামনে বসে থাকা শুভ্রজিৎ ছিটকে বাইরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
শুভ্রজিতের দেহের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে তাঁর মায়ের নম্বর তারা পায়। নম্বরটি ‘মা’ বলে সেভ করা ছিল। সেই নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তার বাড়িতে খবর দেয়। পুলিশ জেনেছে, শুভ্রজিৎ মেধাবী ছাত্র, তিনি বিজ্ঞান নিয়ে বঙ্গবাসী কলেজে পড়াশোনা করছিলেন। একই সঙ্গে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তাঁর বাবার মুদিখানার দোকান রয়েছে। খবর পেয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁর বাড়ির লোক জিআরপিতে এসে শুভ্রজিতের দেহ শনাক্ত করেন।
শুভ্রজিতের দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করে দেয় জিআরপি। চলন্ত ট্রেনেই তারা খোঁজখবর নিতে শুরু করে। পরে ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে চন্দন কুণ্ডু ও বাপন রায়কে গ্রেফতার করে। তাঁদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে আধভেজানো দরজার ওপাশে যে কেউ বসে আছেন তা তাঁরা খেয়ালই করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করা হয়েছে। এদিন তাদের দু’জনকেই হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়েছে।