দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৪ জানুয়ারি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল বর্ধমান স্টেশনের একাংশ। এই দুর্ঘটনায় ১ জন মারা গিয়েছিলেন। দু’মাসের মধ্যে সেই ভেঙে পড়া অংশ নতুন করে তৈরি করে তা খুলে দেওয়া হল জনসাধারণের জন্য। ফের আগের রূপে বর্ধমান স্টেশনকে ফিরে পেয়ে খুশি যাত্রীরাও।
৪ জানুয়ারি রাত আটটা নাগাদ হঠাৎ করে বর্ধমান স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বারের একটা অংশ, অনুসন্ধান ও গাড়ি বারান্দার একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। শনিবার থাকায় যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কম ছিল। ফলে তেমন বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। পুরনো এই বিল্ডিং ভেঙে পড়ায় কয়েকজন আহত হন ও এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। তারপর থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই অংশ। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল যাত্রীদের মধ্যে। ফের আবার কিছু ভেঙে পড়বে কিনা সেই আতঙ্কেই ছিলেন তাঁরা।
ঘটনার পরেই কাজে নেমে পড়ে রেল। প্রথমে ভেঙে পড়া অংশ পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়। তারপরে নতুন করে তা তৈরি করার কাজ শুরু হয়। কী ভাবে এই অংশকে নতুন করে তৈরি করা হবে সেই ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করে রেল। লোহার বিম বসানো হয়। ফের শক্ত করে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হয়। বেশ কয়েকটি পিলার বসানো হয়। নতুন রঙ হয়। তারপরেই এই বিল্ডিং রবিবার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।
শুধু নতুন করে এই বিল্ডিং তৈরি করা নয়, বেশ কিছু জায়গায় মধুবনি চিত্র আঁকা হয়েছে। তার ফলে স্টেশনের সৌন্দর্য আরও অনেকটা বেড়েছে। এদিন এই উদ্বোধনে ছিলেন রেলের এডিআরএম সমিত নারুলা-সহ রেলের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তা। তাঁরা এসে স্টেশন চত্বর ভাল করে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। নতুন গড়ে তোলা অংশটি ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রেল কর্তারা। এডিআরএম সমিত নারুলা জানিয়েছেন, “বর্ধমান স্টেশনকে কেন্দ্র করে আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলোও একে একে করা হবে। কিন্তু যেভাবে দু’মাসের মধ্যে এই ভেঙে পড়া অংশ নতুন করে তৈরি করে খুলে দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা খুব খুশি।”
ভেঙে পড়া অংশ নতুন করে খুলে দেওয়ার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরাও। তাঁদের বক্তব্য, সেদিনের ঘটনার পর থেকে সবার মনে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ওই অংশটা বন্ধ থাকায় যাতায়াত করতেও সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু ফের নতুন এই অংশ চালু হয়ে যাওয়ায় খুব সুবিধা হল। আশা করা যায় ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবে রেল।