দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টে। আজালত জানিয়েছে, মামলাটি যিনি দায়ের করেছেন তিনি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত লিখে পিটিশন ফাইল করেননি। তাই মামলার আবেদন গৃহীত হয়নি হাইকোর্টে।
বাঁকুড়ার মেজিয়ায় বেআইনি কয়লাখনি নিয়ে লালার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন কালিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। পিটিশনে সেখা হয়, মেডিয়ার বেআইনি কয়লাখনিতে পাচারকাণ্ডে জড়িত ছিলেন লালা। হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকে এজলাসে মামলার শুনানির দিন ছিল আজ মঙ্গলবার। শুনানি চলার সময়, আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থ মামলাটি যিনি করেছেন তিনি মামলার বিষয়টি গোপন করে গেছেন। তাছাড়া সিবিআই তদন্তের দাবিও জানাননি তিনি। মামলার বিষয় উল্লেখ না করায় হাইকোর্টের ভৎর্সনার মুখেও পড়তে হয় আবেদনকারীর আইনজীবীকে। বিচারপতি দেবাংশু বসাক আবেদনকারীর আইনজীবীকে মামলার বিষয়টি জানাতে বলেন, কোনও সদুত্তর না পাওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দেন তিনি।
সিবিআই দাবি করেছে, বাঁকুড়ার বেআইনি কয়লাখনির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কয়লা পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের পাশাপাশি সিআইডি-ও তদন্ত শুরু করেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে সিআইডির ডিআইজি অজয় ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি টিম দুর্গাপুর-আসানসোলের যে সমস্ত জায়গায় অবৈধ ভাবে কয়লা তোলা হচ্ছিল যে সব জায়গায় যায় তদন্তের জন্য। মাস খানেক পরে লালা ঘনিষ্ঠ রণধীর সিংকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া থানার আইসি অশোক মিশ্রকে কয়লা কাণ্ডে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁকে দিল্লিতে জেরার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। জেরার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। এই অশোক মিশ্র আবার যুব তৃণমূল নেতা বিনয় মিশ্রর আত্মীয়। বিনয়ও কয়লা পাচারে অন্যতম অভিযুক্ত। তাঁকেও হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাঁর ভাই বিকাশ মিশ্র ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। তা ছাড়া বিনয়ের বাড়ি, ফ্ল্যাট সিল করে দিয়েছে তদন্ত এজেন্সি।