দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো হবে আজ বুধবার বেলা ১২ টায়। সেই কর্মকাণ্ডের পৌরোহিত্য করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন সকালে যখন নয়াদিল্লি থেকে অযোধ্যার উদ্দেশে রওনা হলেন, ঠিক তখনই একটি টুইট করে সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা টুইটে লিখেছেন, “হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান/একে অপরের ভাই-ভাই! আমার ভারত মহান,/মহান আমার হিন্দুস্তান! আমাদের দেশ তার চিরায়ত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে, এবং আমাদের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষিত রাখবো”।
https://twitter.com/MamataOfficial/status/1290866781343510529
তাৎপর্যপূর্ণ হল, টুইটে কোথাও সরাসরি রাম মন্দিরের কথা লেখেননি তৃণমূলনেত্রী। ভূমি পুজোর প্রসঙ্গও উত্থাপন করেননি তিনি। অযোধ্যার সমারোহকে সামনে রেখে দিলীপ ঘোষরা যখন সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রবাদের কথা বলছেন, তখন কৌশলে ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই টুইটের যেমন প্রশাসনিক গুরুত্ব রয়েছে তেমনই রাজনৈতিক ভাবেও অর্থবহ। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলায় যাতে কোনও ধর্মীয় অশান্তি না ছড়ায় সে ব্যাপারে তিনি সতর্ক। সে কারণে এ দেশে সব সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সনাতন ঐতিহ্যের কথা বলেছেন তিনি। আবার এও ঠিক যে রাম মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে উগ্র মেরুকরণের চেষ্টা হতে পারে। তাই জোরালো ভাবে ধর্মনিরপেক্ষকতার বার্তা দিতে সক্রিয় তিনি।
এ ব্যাপারে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় বলেন, রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা অমূলক। বরং এ ব্যাপারে সঙ্ঘ পরিবার অনেক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের নির্দেশে কোনও মিছিল মিটিং পর্যন্ত করেনি বিজেপি-আরঅসএস। তাঁর কথায়, অযোধ্যা মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট দুই ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ধর্মাচরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের সেই রায়কে মর্যাদা দিয়েছে বিজেপি।