দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন রাজনীতির ডার্বি ম্যাচ!
হলদিয়ার বক্তৃতায় বাঙালির ফুটবল প্রেমের কথা তুলে সেই ভাষাতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেছিলেন, তৃণমূল একের পর এক ফাউল করছে। ভ্রষ্টাচারের ফাউল, দুর্নীতির ফাউল, রাজনৈতিক হিংসার ফাউল—এবার তৃণমূলকে 'রামকার্ড' দেখাতে হবে।
মোদীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর এ ব্যাপারে ফুটবলের ভাষাতেই পাল্টা জবাব দিলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম। এদিন রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ বলেন, "বাংলায় তিনি আর অমিত শাহ যে একাদশ তৈরি করছেন সেখানে তৃণমূলের চোর-অপরাধীরাই আলো করে বসে আছে।"
উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। তুষার ধ্বসে অসংখ্য মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে সেলিম বলেন, "মোদী যদি ন্যূনতম জনদরদী হতেন আজকে তিনি সরকারি টাকায় বাংলায় দলীয় কর্মসূচি না করে তাঁর বিশেষ বিমানে হেলিকপ্টারে জোশীমঠে যেতেন। উত্তরাখন্ডের জোশীমঠে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ না হারানো, আহত মানুষদের পাশে থাকতেন।"
এদিন নরেন্দ্র মোদীর শুধুমাত্র দলীয় কর্মসূচি ছিল না। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
তৃণমূলের সঙ্গে বাম কংগ্রেসের গোপন বোঝাপড়া বা ম্যাচ ফিক্সিং মন্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় সিপিএম নেতা বলেন, "মোদীর সঙ্গে মমতার সখ্য সুবিদিত, গুজরাট দাঙ্গার সময় মোদীকে মমতা ব্যানার্জি ফুল পাঠিয়েছিলেন যেমন, তেমনি মোদী নিজেই জানিয়েছেন প্রতিবছর নিয়ম করে তিনি মোদীকে কুর্তা, মিষ্টি পাঠান। মমতার উপহারের বিনিময়ে মোদী কী উপহার দিয়েছেন সেটা তিনি বাংলার মানুষকে স্পষ্ট করে জানান।"
বাম-কংগ্রেসের আঁতাত বোঝাতে গিয়ে কেরল প্রসঙ্গ টেনেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, কেরলে দেখেন না কী হয়! পাঁচ বছর তুমি লুঠ করবে, পাঁচ বছর আমি! এ ব্যাপারে সেলিম বলেন, "কেরলে আরএসএস খুন সন্ত্রাস চালিয়েও হালে পানি পায়নি। ওই রাজ্যে মোদী এখনও তৃণমূলের মত সহযোগী শক্তি পাননি। তাই এত রাগ!"