দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগেই একাধিক মন্ত্রীকে হাত উপুড় করে খরচ করতে বারণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সরকারের আর্থিক অবস্থা এখন এমন নয় যে যথেচ্ছ খরচ করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছিলেন, আপনারা কেউ হুটহাট খরচ করবে না। আমাকে আগে জানাবেন।
বুধবার তফসিলি অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল পুণর্গঠনের সভার শুরুতেই মমতা সমস্ত সদস্যদের উদ্দেশে বলে দিলেন, বড় প্রকল্প কিছু চাইবেন না। তা সরকার দিতে পারবে না। কারণ সরকারের এখন সেই আর্থিক সঙ্গতি নেই।
মাস কয়েক আগেই অর্থ দফতর সমস্ত দফতরকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, বিলাসিতা করার সুযোগ এখন নেই। গাড়ি কেনা, অফিস সাজানো, অন্যন্য জিনিস যা না কিনলেও চলে তা কিনে পয়সা নষ্ট করা যাবে না। কোনও বিল্ডিংয়ের সংস্কার বা সম্প্রসারণের বিষয়েও অর্থ দফতরের অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছিল।
গত দু’চারদিন আগে পূর্তমন্ত্রী মলয় ঘটককেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বড় খরচ করার আগে যেন তাঁকে দেখিয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ চাইলেই ব্রিজ, রাস্তা মেরামতি ইত্যাদির জন্য দুমদাম কোটি কোটি টাকা খরচ করা যাবে না। তা যদি করতেও হয় তা মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে এনেই করতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কোভিড পরিস্থিতিতে এমনিতেই অর্থনীতিতে অধোগতি চলছে। তার মধ্যেও বাংলার সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প শুরু করেছে। যেখানে সরকারের বার্ষিক খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। অন্য দিকে রাজস্ব আদায়ের জায়গাগুলিও সঙ্কুচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজকোষের অবস্থা খুব একটা স্বাস্থ্যকর যে নয় তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট। এদিন তফসিলি অ্যাডভাইজারি বৈঠকে আরও একবার সেকথা উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।