
শেষ আপডেট: 15 May 2020 07:30
এমন বহু হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সঙ্ঘশ্রী ক্লাবের সদস্যরা চালু করেছেন বিনা পয়সার বেসরকারি রেশন দোকান। লকডাউনের মধ্যে সেই রেশন দোকান থেকে কয়েকশো গরিব মানুষ দু’দফায় খাদ্য সামগ্রী পেয়েছেন। ক্লাবের সম্পাদক পাঁচুগোপাল আধিকারী বলেন, “লকডাউন চলায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ওই সব গরিব পরিবারের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার রেশন দোকান থেকে বিনা পয়সায় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ঠিকই কিন্তু শুড়েকালনা ও আশপাশের তিন-চারটি গ্রামের বহু মানুষ সরকারি রেশন পাচ্ছেন না।” তাঁর কথায় এই সব দরিদ্রদের অনেকেরই রেশন কার্ড নেই। আবার কারও তা হারিয়ে গেছে। এমন অনেকে আছেন যাঁরা আবেদন করলেও এখনও রেশন কার্ড হাতে পাননি।
পাঁচুগোপাল অধিকারীর কথায়, “আমাদের এলাকার এই ধরনের পরিবারের সদস্যরা লকডাউনের মধ্যে অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন। এই মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে সঙ্ঘশ্রী ক্লাবের পক্ষ থেকে রেশন দোকানের অনুকরণে খাদ্য সামগ্রী দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” ক্লাবের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ পাল বলেন, “সরকারি রেশন দোকান থেকে খাদ্য সামগ্রী পাচ্ছেন না এলাকার এমন কয়েকশো মানুষকে আমরা চিহ্নিত করি। তাঁদের জন্য খাদ্য সামগ্রী জোগাড় করেছি। এই কাজে শুড়েকালনা এলাকার অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।”
দিন পনেরো আগে ক্লাবঘরের সামনে প্রথম রেশন দোকানের অনুকরণে তাঁরা পাঁচ কেজি চাল, আটা, নুন, বিস্কুট, সয়াবিনের প্যাকেট, রান্নার মশলা প্রভৃতি সাজিয়ে বসেন সদস্যরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই দিন এক এক করে ১০৩টি গরিব পরিবারের হাতে সেগুলি তুলে দেওয়া হয়।
শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় একই ভাবে ৭২ জন গরিব মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হলে একই ভাবে রেশন কার্ড না থাকা মানুষের হাতে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার এই কাজের প্রশংসা করেছেন।