স্মার্টফোন চুরি যাওয়ায় অনলাইন ক্লাস নিয়ে চিন্তা, আত্মঘাতী সোনারপুরের নবম শ্রেণির ছাত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লকডাউনের মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার একমাত্র মাধ্যম অনলাইন ক্লাস। আর সেই অনলাইন ক্লাসের জন্য দরকার স্মার্টফোন। অনলাইন ক্লাস করতে না পারায় এর আগে দেশের অনেক জায়গায় ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মহত্
শেষ আপডেট: 5 September 2020 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লকডাউনের মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার একমাত্র মাধ্যম অনলাইন ক্লাস। আর সেই অনলাইন ক্লাসের জন্য দরকার স্মার্টফোন। অনলাইন ক্লাস করতে না পারায় এর আগে দেশের অনেক জায়গায় ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। ফের একবার একই ধরনের ঘটনা সামনে এল। স্মার্টফোন চুরি হয়ে যাওয়ায় কীভাবে অনলাইন ক্লাস করবে, এই চিন্তায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হল এক নবম শ্রেণির ছাত্রী।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানা এলাকার বিদ্যাধরপুরে। জানা গিয়েছে, মেয়েটির নাম মৌ সাহা। তার বাবার একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দোকানে থাকতেন মৌয়ের বাবা, মা। দুপুরে তাঁরা বাড়িতে খেতে গেলে মেয়ে এসে কিছুক্ষণের জন্য দোকানে বসত। বিকেলে বাবা-মা চলে এলে সে আবার বাড়ি চলে যেত।
পুলিশ সূত্রে খবর, অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবারও দুপুরে দোকানে ছিল মৌ। এমন সময় এক ব্যক্তি সাইকেলে করে দোকানে আসেন। তিনি একটা ফর্দ মৌয়ের হাতে ধরিয়ে দেন। তারপরে নাকি ওই ব্যক্তি তাকে বলে তিনি টাকা আনতে ভুলে গিয়েছেন। মৌয়ের কাছে তিনি মোবাইলটি চান। বলেন বাড়িতে ফোন করে কাউকে টাকা আনতে বলবেন। অনেক জিনিস কেনায় তাঁকে ফোনটি দেয় মৌ। তারপরে ফর্দ মিলিয়ে জিনিস দিতে থাকে সে। এই সুযোগে নাকি ওই ব্যক্তি মোবাইল নিয়ে সাইকেল চালিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনায় হতভম্ব মৌ পুরো বিষয়টা বিকেলে তার বাবা-মাকে জানায়।
পুলিশের কাছে মৌয়ের বাবা স্বপন সাহা বলেন, তাঁরা ফোন চুরি যাওয়ায় মেয়েকে বকাবকি করেননি। কারণ, তাঁরাও অনেক সময় অনেক ক্রেতাকে কোনও কারণে ফোন ব্যবহার করতে দেন। মৌ বুঝতে পারেনি ওই ব্যক্তি জালিয়াত। কিন্তু অনলাইন ক্লাসের সমস্যা হবে বলে মেয়ে খুব কান্নাকাটি করতে থাকে। তাঁরা মৌকে বাড়ি চলে যেতে বলেন।
জানা গিয়েছে, দোকান বন্ধ করে সন্ধেবেলা তাঁরা বাড়ি ফিরে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকিতেও কোনও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের দেহ ঝুলছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, মেয়েটি খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। এরকম মেয়ে যে আত্মহত্যা করতে পারে তা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না। মৌয়ের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। শুধুই মোবাইল চুরি হওয়ায় মৌ আত্মঘাতী হয়েছে, না এর পিছনে অন্য কোনও কারণও রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে ব্যক্তি মোবাইল নিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন তাঁর খোঁজ করছে পুলিশ।