দুই প্রতিবেশীর বিবাদের জের, বালুরঘাটে খুন দশম শ্রেণীর পড়ুয়া
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: বালুরঘাট শহর সংলগ্ন আখিরাপাড়ায় প্রতিবেশীদের বিবাদের জেরে খুন হল এক দশম শ্রেণীর ছাত্র। মৃত ছাত্রের নাম রতন বর্মন, বয়স ১৭ বছর। সে নদীপার এনসি হাই স্কুলের ছাত্র ছিল।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে
শেষ আপডেট: 7 August 2020 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: বালুরঘাট শহর সংলগ্ন আখিরাপাড়ায় প্রতিবেশীদের বিবাদের জেরে খুন হল এক দশম শ্রেণীর ছাত্র। মৃত ছাত্রের নাম রতন বর্মন, বয়স ১৭ বছর। সে নদীপার এনসি হাই স্কুলের ছাত্র ছিল।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে আখিরাপাড়ায় দুই পরিবারের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে গণ্ডগোল চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তা চরম আকার নেয়। তবে ঝামেলা মিটেও যায়। সন্ধ্যায় পাড়ার একটি দোকানে জিনিস কিনতে যান রতনের মা রুমা বর্মন। তখন প্রতিবেশী এক মহিলার সঙ্গে ফের বচসা বাধে। মাকে বাঁচাতে হোক বা অন্য কোনও কারণে সেখানে যায় রতন। তখন রতনের মাথায় কাঠ দিয়ে প্রতিবেশী ওই মহিলার স্বামী স্বপন দাস আঘাত করে বলে অভিযোগ। তখনই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে রতন। প্রথমে তাকে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কলকাতায় রেফার করা হয়। কলকাতা যাওয়ার পথে গভীর রাতে রাস্তাতেই তার মৃত্যু হয়।
[caption id="attachment_248024" align="aligncenter" width="675"]

মৃত্যুর খবরে এলাকা থমথমে।[/caption]
প্রতিবেশী পবন মণ্ডল বলেন, “পিছন থেকে ওকে কাঠ দিয়ে মারা হয়। তখনই বাড়ির লোকজন ওকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সিটিস্ক্যান করা হয়। রিপোর্ট দেখে ডাক্তাররা জানিয়ে দেন তার ব্রেনে চিড় ধরেছে। তাকে কলকাতায় রেফার করা হয়। তবে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।” থানায় রাতেই আগেই অভিযোগ হয়। তাতে প্রতিবেশী স্বপন দাসকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেই অভিযোগে অবশ্য হত্যার কথা বলা নেই কারণ তখনও রতন বেঁচে ছিল।
নিহত রতনের মা রুমা বর্মন বলেন, “আমার সঙ্গে ওই মহিলার সকালে গণ্ডগোল হয়েছিল। সন্ধ্যায় দোকানে গেলে ছেলে আমাকে আনতে গিয়েছিল। তখন ওর স্বামী পিছন থেকে আমার ছেলের মাথায় কাঠের বাড়ি মারে। তখনই ও অজ্ঞান হয়ে যায়।” এটুকু বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি।
পথে মারা যাওয়ার পরে রতনকে বালুরঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। আজ শুক্রবার বালুরঘাট হাসপাতালে তার দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রথমে এই ঘটনায় গণ্ডগোল ও আঘাত করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তবে নিয়মমাফিক এখন খুনের মামলা চালু হয়ে যাবে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। ইতিমধ্যে তিন জনকে তারা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা মূল অভিযুক্ত স্বপন দাসের পরিবারের লোক। স্বপন পলাতক।