হাসনাবাদে দুই পরিবারে সংঘর্ষে আহত ১২, বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন, গ্রেফতার ১
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার বরুণহাট সর্দারপাড়ায় দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে বারো জন আহত হয়েছেন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বাড়ি। এই ঘটনায় যথারীতি রাজনৈতিক রং লেগেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে মারধর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ করেছে তৃণ
শেষ আপডেট: 18 May 2020 07:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ থানার বরুণহাট সর্দারপাড়ায় দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে বারো জন আহত হয়েছেন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বাড়ি। এই ঘটনায় যথারীতি রাজনৈতিক রং লেগেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে মারধর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্রের খবর, স্থানীয় মোজাফফর গাজির কাছ থেকে এক হাজার টাকা পেতেন হবিবুর মিস্ত্রি। রবিবার রাত আটটা নাগাদ সেই টাকা চাইতে গেলে প্রথমে বচসা ও তা থেকে গন্ডগোল-মারধর শুরু হয়। তাতে দু’জন আহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসা করে বাড়ি ফিরে হাবিবুর স্থানীয় বিজেপি নেতা পিন্টু মোল্লাকে খবর দেন। অভিযোগ, দলবল নিয়ে গিয়ে মোজাফফর গাজির পরিবারের উপরে রবিবার ভোররাতে বাঁশ লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায়। মহিলাদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। রেয়াত পায়নি শিশুরাও। তাদেরও মারধর করা হয়। মোজাফফর গাজির পরিবারের মহিলা-শিশুসহ মোট আট জন টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রীও। পাশাপাশি দুটো বাড়ি ভাঙচুর করে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে একজন।

শুধুই কি পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে গণ্ডগোল ও বচসা নাকি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ?
বেশ কিছুদিন আগে এলাকায় মারধর ও গন্ডগোল পাকানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন বিজেপি নেতা পিন্টু মোল্লা। কিছু দিন আগে তিনি জেল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। সেই ঘটনায় পিন্টু মোল্লার বিরুদ্ধে মোজাফফর গাজি-সহ বেশ কয়েক জন অভিযোগ করেছিলেন। ছাড়া পেয়ে তাঁদের উপরে চড়াও হয়ে বাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পিন্টুর বিরুদ্ধে।
আক্রান্ত পরিবারের সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক বলে পরিচিত। তৃণমূল মনে করছে, পাওনা টাকা ফেরতের অজুহাতে হামলা চালালেও এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। আক্রান্ত মোজাফফর গাজি অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

হাসপাতালে এখনও পাঁচ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তৃণমূল নেতা বাপি গাজি বলেন, “বিজেপি নেতা পিন্টু মোল্লা এক জন গরিবের বাড়িতে আগুল লাগিয়ে দিয়েছে। বরুণহাটে এর আগে এমন ঘটেনি।” পিন্টু মোল্লা বলেন, “আমার নামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ওটা ব্যক্তিগত আক্রোশের ফলেই ঘটেছে।” এই ঘটনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে হাবিবুর গাজি নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এব্যাপারে পুলিশ-প্রশাসন এখনও মুখ খোলেনি। তারা জানিয়েছে এখন আমফান নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। সুন্দরবনের নীচু এলাকার মানুষজনকে উদ্ধার করে উপরে আনার কাজে ব্যস্ত।