দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: আসানসোলের সালানপুর কোলিয়ারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে তোলা ১০ টন কয়লা আটক করল সিআইএসএফ। তারা বাজেয়াপ্ত করেছে একটি ট্রাক এবং একটি পে-লোডার। যদিও এই ঘটনায় তারা কাউকে ধরতে পারেনি।
সালানপুর থানা এলাকার বনজেমারি খনিতে কমান্ড্যান্ট মিথিলেশ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফ। সেখানে গিয়ে তারা ১০ টন কয়লা বোঝাই একটি ট্রাক আটক করে। সঙ্গে ডব্লিউবি ৩৮ এপি ৬২৮৭ নম্বরের একটি গাড়িকেও আটক করে।
সিআইএসএফ সূত্রে জানা গেছে সোমবার গভীর রাতে সিআইএসএফের একটি দল রুটিন অভিযানে বের হয়। তারপরেই তারা গোপন সূত্রে খবর পায় বনজেমারি কয়লা খনি এলাকায় অবৈধ ভাবে কয়লা তোলা হচ্ছে পেলোডারের সাহায্যে। একটি ট্রাকে তা বোঝাই করা হচ্ছে পাচার করার জন্য। এই খবর পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা সে দিকে রওনা হন।
সিআইএসএফ-কে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেখেই ট্রাক ও পেলোডার ফেলে রেখে পালিয়ে যায় চোরেরা। তবে গাড়ির চালক ও খালাসি পালাতে পারেনি। তাদের আটক করে সালানপুর থানার হাতে তুলে দিয়েছে সিআইএসএফ।
সিআইএসএফ ক্যাম্প ইনচার্জ বরুণ ত্যাগী মঙ্গলবার জানান, সালানপুর থানা এলাকার বনজেমারি কোলিয়ারি সংলগ্ন একটি খাটালের কাছে কয়লা চুরির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে কয়লা ভর্তি একটি ট্রাক ও পে-লোডার আটক করা হয়। তিনি জানিয়েছেন যে রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পে-লোডারের চালক পালিয়ে যায়। তবে ট্রাকের চালক ও খালাসিকে আটক করে সালানপুর থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়য়েছে গাড়ির চালক এবং গাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে কয়লা চুরির মামলা রুজু করা হয়েছে। মালিকের খোঁজ চলছে। সালানপুর থানার ইনচার্জ পবিত্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “সিআইএসএফের একটি দল অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক ও পে-লোডার সহ দু'জনকে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দেয়। ট্রাকের চালক, খালাসি ও পে-লোডার মালিকের নামে কয়লা চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আসানসোল খনি এলাকায় অবৈধ ভাবে কয়লা উত্তোলন করা ও পাচার করা নতুন ব্যাপার নয়। কয়েক দিন আগেই রানিগঞ্জের কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার বাঁশড়া কোলিয়ারির এজেন্ট কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান। বাঁশড়া গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল ওই এলাকায় বহু অবৈধ খনি গজিয়ে উঠেছে। গ্রামে গিয়ে কর্তৃপক্ষ দেখে ওই এলাকায় অন্তত ২২টি খোলামুখ খনি তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভের পরের দিনই অবৈধ খাদান ভরাট করতে উদ্যোগী হয়েছিল ইসিএল।