হাড়োয়ায় পেটের দায়ে সার্কাস শিল্পীরা নামলেন নর্দমা পরিষ্কারে, লকডাউনের জেরে এখন কর্মহীন তাঁরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে দীর্ঘ চার মাস এম্পায়ার সার্কাসের ২৪জন শিল্পী আটকে রয়েছেন হাড়োয়ার সার্কাস ময়দানে। বিপন্ন সার্কাস শিল্পীরা একা নন, তাঁদের সঙ্গে এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে মাঠে পড়ে রয়েছে অন্য প্রাণীরাও। নষ্ট হতে বসেছে সার্কাসের সর
শেষ আপডেট: 26 June 2020 01:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে দীর্ঘ চার মাস এম্পায়ার সার্কাসের ২৪জন শিল্পী আটকে রয়েছেন হাড়োয়ার সার্কাস ময়দানে। বিপন্ন সার্কাস শিল্পীরা একা নন, তাঁদের সঙ্গে এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে মাঠে পড়ে রয়েছে অন্য প্রাণীরাও। নষ্ট হতে বসেছে সার্কাসের সরঞ্জাম। বিপন্ন হচ্ছে সার্কাসে খেলা দেখানো কুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। অভিযোগ, ওই সার্কাসের মালিক আখতার হোসেন দুঃসময়ে শিল্পীদের উপর থেকে হাত তুলে নিয়েছেন।
এখন রুজি-রোজগারে টান পড়েছে শিল্পীদের। তাঁদের পক্ষে খাবার জোটানোই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। কুকুর, ম্যাকাও, কাকাতুয়া প্রভৃতিদের অবস্থাও ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। শিল্পীরা না হয় দিনজমুরের কাজ করে বা নর্দমা পরিষ্কার করে পেট চালিয়ে নেবেন কিন্তু সার্কাসের প্রাণীদের কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এই সব শিল্পীদের কারও বাড়ি কেরলে, কারও ঝাড়খণ্ডে কারও বিহারে। দেশের রাজ্যের শিল্পীরাও আছেন। মালিকের আচরণের জন্য তাঁরা কেউ বাড়িতে ফিরতে পারছেম না বলে জানিয়েছেন। শিল্পীদের অভিযোগ, সব মিলিয়ে এম্পায়ার সার্কাসের মালিক আখতার হোসেনের কাছে তাঁরা প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা পাবেন।
এখন তাঁরা তাঁবু সরিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না। সার্কাসের বহু সরঞ্জাম মাঠের মধ্যে পড়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে তাঁবুতে থাকতেও সমস্যা হচ্ছে তাঁদের। যেখানে নিজেদেরই ভাত জোটাতে সমস্যা হচ্ছে সেখানে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী সার্কাসের অন্য প্রাণীদের খাবারও জোটাতে হচ্ছে তাঁদেরই। ফলে সমস্যা জটিল হয়ে উঠছে।

এই দুর্দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ফরিদ জমাদার ও জাহাঙ্গির মোল্লা। এঁদের জন্য তাঁরা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। তাদের শারীরিক অসুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বারের খেলা দেখাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়েছেন সুনীতা দেবী নামে যে শিল্পী তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। মালিককে জানানো সত্ত্বেও তিনি ওষুধের ব্যবস্থা করেনি। স্থানীয় প্রশাসন সেই ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গেছে।
সার্কাসের ২৪ জন শিল্পী স্থানীয় থানায়, বসিরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কাছে, বিডিওর কাছে ও পঞ্চায়েতে সার্কাস মালিক আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁরা চাইছেন তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিয়ে দিন সার্কাস মালিক। তা হলে তাঁরা যে যার বাড়িতে চলে যেতে পারবেন। উমফানের পরে একাধিক শিল্পী জলবাহিত রোগেরও শিকার হয়েছেন বলে খবর।
এব্যাপারে এম্পায়ার সার্কাসের পক্ষে জাহাঙ্গির মোল্লার প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।