দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি যে কোন কেন্দ্রের বিধায়ক, তা হয়তো একবারে অনেক তৃণমূল নেতাও বলতে পারবেন না। ভাবতে হবে! কারণ রাজনীতিতে তাঁর গতিবিধি এতটাই কম। সেই তিনি বারাসতের তৃণমূল বিধায়ক অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী একুশের ভোটের আগে দিদিকে জানিয়ে দিলেন, যদি তাঁকে টিকিট না দেওয়া হয় তাহলে তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না।
এমনিতেই মঙ্গলবার থেকে টলি-রাজনীতির একাধিক খবরে অনেক জল্পনা তৈরি হয়েছে। ওদিকে মুম্বইতে মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। এদিকে কলকাতায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছেন বিজেপি নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। তারমধ্যেই জানা গেছে, আজ বুধবার নাকি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন নুসরত জাহান রুহির ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত। এর মধ্যেই একটি খবর বুধবার সকালে ছড়িয়ে পড়ে, চিরঞ্জিত নাকি দিদির কাছে অব্যাহতি চেয়েছেন।
দ্য ওয়াল-এর তরফে তাঁকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি কোনও চিঠি দিইনি। মাস দুয়েক আগে মৌখিক ভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলাম, আমি যদি টিকিট না পাই তাহলে আর রাজনীতিতে থাকব না। আমি তো রাজনীতির লোক নই।”
অনেকের মতে, এর দুটি মানে রয়েছে। এক, চিরঞ্জিত হয়তো আরও একবার দিদির কাছে টিকিট চাইছেন। তা ঘুরিয়ে এই ভাবে বলেছেন। আবার এও হতে পারে, চিরঞ্জিত হয়তো বুঝেছেন এবার আর তাঁকে দিদি টিকিট দেবেন না, তাই আগে থেকে রাজনীতি ছাড়ার কথা শুনিয়ে রেখেছেন।
তবে অভিনেতা বিধায়ক একথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি অব্যাহতি চাননি। যদি দল টিকিট না দেয় তাহলে তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন।
অনেকে বলেন, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর শহরের তৃণমূল নেতাদের তীব্র কোন্দল রয়েছে। তাঁদের মতে, সেই কোন্দল ঢাকতেই বারাসত বিধানসভায় চিরঞ্জিতকে প্রার্থী করা হয়েছিল। যদিও নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে বিধায়কের না যাওয়া ও অন্যান্য নানা বিষয়ে স্থানীয় নেতাদেরও ক্ষোভ রয়েছে বলে শোনা যায়। এখন দেখার, দিদি চিরঞ্জিৎকে প্রার্থী করেন নাকি অভিনেতার অবসর ঘটে রাজনীতি থেকে।