দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দিনে বাংলায় কন্টেইনমেন্ট জোন সংখ্যা এক লাফে বাড়ল ৭২টি। গত ৩০ এপ্রিল মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছিলেন, রাজ্যে কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা ৪৪৪টি। সোমবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানালেন, আজ পর্যন্ত বাংলায় কন্টেইনমেন্ট জোন ৫১৬টি। প্রসঙ্গত, ৩০ এপ্রিলের পর আজই প্রথম সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যসচিব।
এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ১৪ দিনের মধ্যে যাতে হাওড়া, কলকাতা রেড জোন থেকে অরেঞ্জ জোন হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে। প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বাজারে সশস্ত্র পুলিশের প্যারেড করাতে। কিন্তু পুলিশ নামলেও সংক্রামিত এলাকার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কলকাতায় যে ভাবে কন্টেইনমেন্ট জোন বাড়ছে তা প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন অনেকে।
এদিন মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, কলকাতার কন্টেইনমেন্ট জোন সংখ্যা ৩১৮টি। ৩০ এপ্রিল এই সংখ্যা ছিল ২৬৪। অর্থাৎ চারদিনে বাংলায় যে ৭২টি সংক্রামিত এলাকা বেড়েছে তারমধ্যে ৫৪টিই কলকাতায়। ২৭ এপ্রিল কলকাতার কন্টেইনমেন্ট জোন ছিল ২২৭টি। অর্থাৎ সাতদিনে বেড়েছে ৯১ টি কন্টেইনমেন্ট জোন।
তা ছাড়াও হাওড়ায় কন্টেইনমেন্ট জোন রয়েছে ৭৪টি, উত্তর ২৪ পরগনায় ৮১টি, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯টি। গত কয়েকদিনে হুগলির কন্টেইনমেন্ট জোনও বেড়েছে। ৩০ এপ্রিল ছিল ৭টি। চারদিনে তা বেড়ে হয়েছে ১৮টি। হুগলিতে নতুন নতুন এলাকা থেকে সংক্রামিতর হদিশ মিলেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের হয়ে দাঁড়িয়েছে চন্দননগরের উর্দিবাজার এলাকা। এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদহ, দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় দুটি-একটি করে কন্টেইনমেন্ট জোন রয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী করোনা ভাইরাসকে মাধ্যমিক পরীক্ষা ভেবেছিলেন। মাধ্যমিকের সময়ে যেমন স্কুলে স্কুলে যান তেমন করে এদিক সেদিক ঘুরে বেরিয়েছিলেন। এখন আর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ দেখাতে আসছেন না!" বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী এবার অন্তত বুঝুন যে, পাবলিসিটি স্টান্ট করে মহামারী ঠেকানো যায় না। তার জন্য স্বচ্ছ ভাবে প্রশাসন চালাতে হয়। রাজ্যের প্রশাসনের কর্তারা দোটানায় পড়ে গিয়েছেন। কোনটা করবেন বুঝতে পারছেন না। মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে তথ্য লুকোবেন নাকি, করোনা ঠেকাবেন!"