দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংক্রমণ বাড়লেও বাংলায় এখনই পুরো লকডাউনের পরিস্থিতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব বলেন, “এখনই বাংলায় পুরো লকডাউনের কোনও সম্ভাবনা নেই। এখনও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।”
তবে কন্টেইনমেন্ট জোনে যেমন কড়া লকডাউন চলছে তা চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। রাজীব সিনহা এদিন আরও বলেন, কন্টেইনমেন্ট জোনে যদি লকডাউন বাড়ানোর কথা স্থানীয় প্রশাসন মনে করে, তাহলে তারা তা করতে পারে। কিন্তু সারা রাজ্যে ফের কড়া লকডাউন হচ্ছে না।
সংক্রমণ বাড়ছে দেখে অনেকেই পুরো লকডাউনের আশঙ্কা করছিলেন। তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহলও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হল, রাজ্যে পুরো লকডাউন হচ্ছে না।
সেইসঙ্গে মুখ্যসচিব এদিন এও জানান, রাজ্যে শহর ও গ্রামীণ—দুই এলাকাতেই সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু তা নিয়ে প্যানিক করার বা হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ রাজ্য সরকার প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “করোনা যে গতিতে এগোচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গতিতে আমরা এগোচ্ছি।”
এদিন রাজীব সিনহা বলেন, বেশি সংক্রমণ হচ্ছে যে জেলাগুলিতে, সেই রকম পাঁচটি জেলাকে নিয়ে একটি ক্লাস্টার করা হচ্ছে। সেই জেলাগুলি হল, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলি। এর আগেই চার জেলায় নতুন চার জন নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছিল নবান্ন। কলকাতার নোডাল অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যসচিব জানান, সংক্রমণ রুখতেই প্রশাসনিক পদক্ষেপের জন্য অভিজ্ঞ অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার থেকে এই পাঁচটি জেলাকে নিয়ে একটি কোভিড ক্লাস্টার করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কলকাতায় এত সংক্রামিত মানে তাঁরা সবাই কলকাতার লোক, এমন নয়। তিনি বুঝিয়ে বলেন, কারও বাড়ি হয়তো হাওড়ায়। তাঁর টেস্ট হয়েছে কলকাতায় বা শহরের কোনও হাসপাতালে তিনি ভর্তি রয়েছেন, তাঁদেরও কলকাতার বলে ধরা হচ্ছে। তার মানে সবাই কলকাতার বাসিন্দা নন। উদাহরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “কোলাঘাট তো হাওড়ার বর্ডার। কেউ হয়তো ওখানে আক্রান্ত হয়ে হাওড়ায় ভর্তি রয়েছেন। তাঁকে হাওড়ার বলে বুলেটিনে দেখানো হচ্ছে। আসলে কেসটা পূর্ব মেদনীপুরের।” সেই হিসেবে ধরলেও কলকাতা ও সংলগ্ন জেলায় যে সংক্রমণ বেশি, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। তাই এবার থেকে পাঁচ জেলাকে নিয়ে একটি ক্লাস্টার করেই কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।