দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে ই-মেল করে শ্রী সিমেন্ট জানিয়েছে তারা আর চুক্তিতে থাকবে না। এমনকি স্পর্টিং রাইটসও ফিরিয়ে দেবে। হরিমোহন বাঙুররা সেই ই-মেলের প্রতিলিপি পাঠিয়ে দিয়েছেন নবান্নতেও। কারণ গতবছর নবান্নে বসেই চুক্তি নিয়ে ঘোষণা হয়েছিল।
এদিন বিকেলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে কার্যত ক্ষোভের সঙ্গেই তিনি বলেন, “আমি কি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব চালাই নাকি? যাঁরা ক্লাব চালান তাঁদের জিজ্ঞেস করুন।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট কর্তাদের কার্যকলাপে তিনি বিরক্ত। শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের যখন আইএসএল খেলা সংকটে, সমর্থকরা যখন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন তখন টিমটিম করে জ্বলতে আশাটুকুও প্রায় নিভে গিয়েছে এদিন। অনেকের মতে, মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা ক্লাব চালান অর্থাৎ কর্তারাই এর জবাব দিতে পারবেন।
গত ২ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্বপ্ন জ্বলে উঠেছিল লাল-হলুদ জনতার মনে। নেতাজি ইনডোরে খেলা হবে দিবসের সূচনা অনুষ্ঠানে মমতা বলেছিলেন, “ঝগড়া হচ্ছে, মনোমালিন্য হচ্ছে। সব মিটে যাবে। চুক্তি সই হবে। ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবে। আমার কাছে সেরকম তথ্যই রয়েছে। আমি এটুকু বলতে পারি, একটু ছেড়ে খেলুন। তা হলে চুক্তিটা হয়ে যাবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। পাঁচ বছরের জন্য কেউ দায়িত্ব নেবে, এটাও মুখের কথা নয়। পঞ্চাশ কোটি টাকা করে লাগে। তাদেরও অনেক বলে রাজি করানো হয়েছে। সদস্যদের নিয়ে যে সমস্যা ছিল সেটাও মিটে গিয়েছে। বাকিটাও আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।’
কাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন একটু ছেড়ে খেলুন?
অনেকের মতে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের উদ্দেশেই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা। প্রসঙ্গত, শ্রী সিমেন্টের চুক্তিপত্রে কর্তারা সই করতে চাইছেন না। তাঁদের বক্তব্য, ইনভেস্টর যে শর্ত দিয়েছে তা মেনে নেওয়া মানে ক্লাবকে বেঁচে দেওয়া। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই দড়ি টানাটানি চলছে। এদিন যাতে কার্যত যবনিকা পড়ে গিয়েছে।
এর মাঝে অনেক বৈঠক হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তনীরা বৈঠকে বসেছিলেন। সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো দিকপালদের হাতাহাতি হওয়ার মতো উপক্রম হলেও চুক্তি নিয়ে জট কাটেনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, তাঁর হাতেও কিছু নেই।