দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেল-নবান্ন পারস্পরিক দোষারোপের পালা সাঙ্গ হলো। মাঝেরহাটের সেতু ভেঙে পড়া নিয়ে হাইপাওয়ার কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিলেন, “পূর্ত দফতর দায় এড়াতে পারে না।”
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, “মাঝেরহাট সেতু রক্ষণাবেক্ষণে ওদের (পড়ুন পূর্ত দফতরের) গাফিলতি ছিল। ফাইল চালাচালিতে সময় গেছে।” পরে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী এ-ও বলেন যে, পূর্তমন্ত্রীর কাছে ফাইল যায়নি। একটা অংশের সরকারি অফিসারদের মধ্যে ফাইল চালাচালি হয়েছে।
তবে এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মেট্রো কম্পনের কথা আরও একবার উল্লেখ করেন। পূর্ত দফতরের গাফিলতির পরেও মেট্রো প্রকল্পের কম্পন আরও একটি কারণ বলে কমিটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, মাঝেরহাট সেতুভঙ্গের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের তরফে মেট্রো কম্পনকেই ব্রিজ ভাঙার একমাত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রথমে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই কথা বলেন। সেদিন কলকাতায় ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি কর্মসূচিতে ছিলেন দার্জিলিং-এ। পাহাড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা বলেন। তারপর শুরু হয় মেট্রো-রাজ্য ঠোকাঠুকি। এর দিন দুয়েকের মধ্যেই পূর্ব রেলের একটি চিঠি ফাঁস হয়ে যায়। যেখানে বলা হয়, প্রায় একমাস আগে রাজ্যকে, চিঠি দিয়ে দ্রুত মাঝেরহাট সেতু সংস্কারের কথা বলে রেল। পূর্ব রেল ওই চিঠিতে লেখে, শিয়ালদহ-বজবজ লাইনে সিগ্যালের কাজ করতে গিয়ে রেলের আধিকারিকরা দেখেছেন ব্রিজের অবস্থা ভাল নেই। পর্যবেক্ষকদের মতে, এরপর থেকেই খানিকটা নরম হয় রাজ্য।
সরকারের তরফে এ দিন জানানো হয়েছে, মাঝেরহাট সেতু পুরোটা ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য বেশ কিছু সংস্থার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছে রাজ্য। সূত্রের খবর, এর মধ্যে নাকি রয়েছে বিদেশি সংস্থাও।