
শেষ আপডেট: 26 July 2020 12:40
সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলও এই ব্যানারের পিছনে কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে মত অনেকের। মালঞ্চতে তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে একদা খড়্গপুর শহরের তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী বলেন, “দল কর্মীদের আবেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না । যাঁরা দীর্ঘদিন সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব না দিয়ে পিছনের সারিতে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” দেবাশিসবাবুর ঘনিষ্ঠ আর এক তৃণমূল নেতা বলেন, “দল যদি এভাবে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দিতে থাকে তাহলে আগামী দিনে তাঁরাও ভাববেন, দলে আদৌ থাকবেন কিনা।”
কয়েক মাস আগেই খড়্গপুর সদরের বিধানসভার উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল তৃণমূল। বিধায়ক প্রদীপ সরকার অবশ্য বলছেন, এর পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। তাঁর কথায়, “যাঁরা এই কাজ করছেন তাঁরা কেউ তৃণমূলের কর্মী নন। পুরোপুরি বিজেপির পরিকল্পনা মাফিক চলছে।” পাল্টা বিজেপি নেতা দীপসেনা ঘোষ বলেন, “এটা একেবারেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগ্রাম থেকে উঠে আসা নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্নে তৃণমূলের উপরের স্তরেও অনেক আলোচনা রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূলে সত্যি যাঁরা দুর্দিনে লড়াই করেছিলেন, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের তুলনায় তথাকথিত কিছু নেতাকে কার্যত প্রোজেক্ট করে উপরের সারিতে বসানো হয়েছে। তাঁদের এও বক্তব্য, সেই সমস্ত ‘কাগুজে বাঘদের’ সঙ্গে বাস্তবের রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। সব মিলিয়ে খড়্গপুর শহরের এই ব্যানার এখন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে।