দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের উপর বুধবার প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে মুর্শিদাবাদে। নিমতিতা স্টেশনে সেই বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন জাকির। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ২৬ জন।
এ ঘটনায় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেআব্রু হয়ে গেছে বলে যখন মনে করছেন অনেকেই, তখন বৃহস্পতিবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে জাকিরকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি বলেন, ‘ইটস এ গেমপ্ল্যান টু কিল জাকির’। অর্থাৎ জাকিরকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি এও বলেন, এক, বিস্ফোরণ হয়েছে রেলের জমিতে। দুই, রিমোটে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে খবর। তাঁর কথায়, কেন্দ্রকে এর দায় নিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার আগেই বিজেপির ভিতর থেকেও দাবি উঠেছে যে, এই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি তথা এনআইএ-কে দিয়ে হোক। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য পুলিশকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশা করা বৃথা। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভু যখন তদন্তের লাইন স্থির করে দিচ্ছে, তখন কী হবে তা বোধগম্য। সূত্রের খবর, যে হেতু রেল স্টেশনে বিস্ফোরণ হয়েছে তাই রেলভবনের একাংশ কর্তারও মত যে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। কারণ, সামগ্রিক ভাবে রেলের এলাকায় নিরাপত্তা প্রশ্নটি এর সঙ্গে জড়িত। সম্ভবত আজ কালের মধ্যেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে।
https://youtu.be/bmwuXVqK8aI
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, এর আগে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ বা নৈহাটিতে আতসবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ নিয়ে এনআইএ তদন্ত করেছে। নৈহাটি বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একাংশের উপর দায় চাপিয়েছে এনআইএ। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার রাতে ওই বিস্ফোরণের পরপরই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী স্পষ্টতই অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় বাইরের কেউ আছে বলে মনে করি না। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলই নেপথ্যে কারণ বলে শুনছি। তিনি আরও বলেন, “এনআইএ দিয়ে তদন্ত করা হোক। আমি এখানেই আছি। জাকির হোসেনের সঙ্গে গরু পাচারকারীদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। তিনি এইসব বরদাস্ত করতেন না। তাই আমি বলছি মুখ্যমন্ত্রী যখন মনে করছেন রিমোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তখন এনআইএ-কে দিয়েই তদন্ত করা হোক।”
একই অভিযোগ করেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও। অধীর-সুজনদের বক্তব্য, বাংলায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি যে কতটা খারাপ তা নিমতিতার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে।