দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: নিরাপত্তা আরও বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। পরিষেবা নিয়ে তারা কোনও রকম আপোশ করতে চাইছে না বলে জানানো হয়েছে। এরই প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে ওয়ার্ডে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি। চিকিৎসকের সঙ্গে ওয়ার্ড থেকে দ্রুত যোগাযোগের রাখা হবে মোবাইল ফোনও।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনার লক্ষণ রয়েছে এমন রোগীকে ভর্তি করা হচ্ছে। সেই কারণে ‘সারি’ ওয়ার্ড করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের সামনে ‘নিউ সারি ওয়ার্ড’ এবং নতুন ভবনের এক তলায় রয়েছে ‘ওল্ড সারি ওয়ার্ড’। বিভিন্ন সময়ে এই সারি ওয়ার্ডের পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই সমস্যা মেটাতে এবং পরিষেবা উন্নত করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে বর্ধমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঁচটি মোবাইল ফোন দেওয়া হচ্ছে। সারি ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ড এবং সুপারের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই ফোনগুলি ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়াও হাসপাতালের সারি ওয়ার্ডের পুরুষ বিভাগে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। প্রথম পর্যায়ে আটটি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। বর্ধমান হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বুধবার এ ব্যাপারে নির্দেশিকা দিয়েছেন।
এ ছাড়াও প্রতিটি রোগীর রিপোর্ট প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর হোয়াটসঅ্যাপে কোভিড মেডিক্যাল বোর্ডে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। রাউন্ড দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হচ্ছে।
হাসপাতালের এক কর্তা বলেন, সারি ওয়ার্ডে রোগীর পরিজনদের ঢোকা নিষিদ্ধ। এই ওয়ার্ডে যাঁরা ভর্তি থাকেন তাঁদের ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি কারণ সেখানে রোগী একা থাকছেন। সব দিক বিবেচনা করে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বেশি করে নজর রাখা সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, এই ওয়ার্ডে বাইরের কেউ ঢুকে পড়ছেন কিনা সে দিকেও নজর রাখা সহজ হবে।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক এবং কর্মী এখন কোয়ারেন্টাইনে। তাই কম লোকবল নিয়ে বেশ কষ্ট করেই পরিষেবা বজায় রাখতে হচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নত করে পরিষেবা আরও ভাল করার জন্যই এই বিশেষ পদক্ষেপ বলে জানাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত শনিবার বলেন, “আমাদের সমস্ত কর্মীই আন্তরিক। একই সঙ্গে আমাদের কাছে প্রতিটি রোগী এবং তাঁর পরিবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিষেবা আরও ভাল করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”