দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটু একটু করে গিয়ার তুলছে সিবিআই।
সারদা-সহ অন্যান্য চিটফান্ড তদন্তে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এ বার নোটিস পাঠাল মালদার পুলিশ সুপার তথা একদা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষকে। শুধু অর্ণব ঘোষ নন। সিবিআই সূত্রের খবর, নোটিস পাঠানো হয়েছে অন্য এক আইপিএস পল্লবকান্তি ঘোষকেও।
কয়েকমাস হলো সিবিআই আবার নড়াচড়া শুরু করেছে। আর এতেই ঘুম ছুটেছে শাসক দলের অনেক নেতার। তৃণমূলের অনেকের আশঙ্কা, উনিশের ভোট যত এগোবে সিবিআই-কে ব্যবহার করে কেন্দ্রের শাসকদল তাদের নেতাদের টার্গেট করবে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুণাল ঘোষকে জেরা করেছে সিবিআই। সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে হাজিরা দিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী শিবাজী পাঁজা এবং একদা মুকুল ঘনিষ্ঠ আসিফ খানও। অনেকের মতে, তৃণমূলের ভিতরে নাকি রব উঠে গেছে, ‘এ বার কে?” এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নোটিস পাঠালো অর্ণব ঘোষদের।
গোয়েন্দা সংস্থার অনেক অফিসার প্রায়ই বলেন, সুদীপ্ত সেনের লাল ডায়েরির খোঁজ মিললে দুধ-জল অনেকটাই পরিস্কার হয়ে যাবে। সেই লাল ডায়েরিতেই নাকি লেখা ছিল টাকা লেনদেনের কাঁচা হিসেব। অনেকে আবার এ-ও অভিযোগ তোলেন, সিবিআই তদন্তভার হাতে নেওয়ার আগেই ওই লাল ডায়েরি ভ্যানিশ হয়ে গেছে। সিবিআই-এর একটি সূত্রের মতে, ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া লাল ডাইরির ম্যাজিশিয়ানের টিকি ধরতেই তৎপর হয়ে উঠেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
অর্ণব ঘোষকে নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “সত্যিই যদি নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে ওঁর উচিত তারিখ, ঘড়ি মিলিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে যাওয়া। এখন থেকেই যেন অ্যালার্ম দিয়ে রাখেন। ভাল করে যেন টিফিন করে তারপর যান। পুরনো কথা মনে করতে অসুবিধা হলে আমিও ওঁর সঙ্গে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত কুণাল ঘনিষ্ঠদের অনেকেই দাবি করেন, সাংবাদিক তথা প্রাক্তন সাংসদকে গ্রেফতার করাটাই নাকি বেআইনি। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, কুণালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে। কিন্তু ওই থানায় নাকি কুণালের নামে কোনও এফআইআর ছিল না। বরং কুণালই নাকি অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে ওই থানায় অভিযোগ করতে গেছিলেন। তখনই নাকি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই সিবিআই-এর মতি-গতি দেখে বলছেন, যা শুরু করেছে তাতে অনেকেরই পুজোটা দুশ্চিন্তায় কাটবে!