দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ধরনের কম্বো অফার। কোনও নামী সংস্থা বা শপিং মলে নয়। এই অফার মিলছে হুগলির রিষড়ায় জিটি রোডের ধারে একটা মাংসের দোকানে। এখানে এক কেজি পাঁঠার মাংস কিনলে চারশো গ্রাম মুরগির মাংস দেওয়া হচ্ছে একেবারে বিনামূল্যে।
করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার ধারণ করায় ব্যবসা জমছে না। বিক্রিবাটাও তেমন হচ্ছে না। বিশেষ করে এখনও অনেকেই হোটেল-রেস্তরাঁয় খেতে যাচ্ছেন না। বাইরের খাবার খেতে ইচ্ছা হলে লোকে খুব জোর খাবার ‘অর্ডার করছেন’। উৎসব-অনুষ্ঠান বন্ধ। তাই পাঁঠার মাংসের বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। স্টক বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এই অবস্থায় খদ্দের টানতে অফার দেওয়া শুরু করেছেন এক মাংস ব্যবসায়ী।
রিষড়া ওয়েলিংটন গেট মোড়ে এক কেজি পাঁঠার মাংস কিনলে সঙ্গে চারশো গ্রাম মুরগির মাংস ফ্রি দিচ্ছেন এক মাংস বিক্রেতা। তাঁর নাম জুগনু কুরেশি। তিনি বলেন, “লকডাউনের জন্যই এই অফার দিয়েছি। কারণ স্টক প্রচুর হয়ে গেছে। আমরা কমে পাচ্ছি আর কমে বিক্রি করছি। সঙ্গে এই শ্রাবণ মাসের জন্য মুরগির মাংসের অফারটা আমি নিজে দিচ্ছি। দুদিন হল এই অফার চালু করেছি।” মাংসের মান কেমন? উত্তরে তিনি বলেন, “সে কথা তো বলবেন যাঁরা কিনে নিয়ে গিয়ে খেয়েছেন তাঁরা। আমি তো নিজের জিনিস ভাল বলবই।” রিষড়ায় অধিকাংশ দোকানে এখন অবশ্য পাঁঠার মাংসের কেজি প্রতি দাম সাড়ে ছশো টাকা। ক্রেতাদের অনেকে বলছেন এটি আসলে পাটনাই ছাগল। এর চল তেমন একটা নেই এই এলাকায়।
করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সংক্রমণের নিরিখে রাজ্যে প্রায় দিনই নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। লকডাউনে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। লোকের রোজগার কমেছে। আর্থিক সমস্যা বেড়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে ফের লকডাউন চালু হয়েছে। ফলে দিন আনা দিন খাওয়া লোকজন সমস্যায় পড়েছেন। এই অবস্থায় চিকেন ও মাটনের পদ এক শ্রেণীর মানুষের কাছে বিলাসিতা হয়ে গেছে। ফলে কোথাও কোথাও মাংসের জোগান একই থাকলেও চাহিদা প্রায় নেই। তাই সস্তায় পাঁঠার মাংস বিক্রি করতে শুরু করেছেন জুগনু কুরেশি। একে সস্তায় পাঁঠার মাংস তার উপরে চিকেন ফ্রি। স্বভাবতই খুশি ক্রেতারা। তাঁরা ভাবছেন এবার হয়তো অন্য দোকানও এই ধরনের অফার দিতে শুরু করবে।