দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজোড়া লকডাউনের প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম হাওড়ার মঙ্গলা হাটে। সপ্তাহে একদিন মঙ্গলবার বসে বলেই এর নাম মঙ্গলাহাট। তবে এখন আর একদিনে সব কেনাকাটা সম্ভব হয় না বলে সোমবারই হাট বসে যায়।
হাওড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত মল্লিক ফটকের কাছে মূল হাট যদিও তার ব্যাপ্তি হাওড়া কোর্ট হয়ে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত। এখানে বহু কোটি টাকার ব্যবসা হয় প্রতি সপ্তাহে কিন্তু লকডাউনের জেরে এক মাস বন্ধ মঙ্গলা হাটের বেচাকেনা। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।
এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জামা কাপড় কিনতে এখানে ভিড় জমান বিক্রেতারা। তাঁরা পাইকারি দরে এখান থেকে জামা-কাপড় কিনে নিয়ে গিয়ে তা বিক্রি করেন দোকানে। লকডাইনের জেরে প্রাচীন এই হাট এখন পুরো শুনশান। বিপাকে ব্যবসায়ীরা।
এই হাটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন হাওড়ার ডোমজুর বিধানসভা কেন্দ্রের কয়েক হাজার মানুষ। অন্য জায়গার শ্রমিকরাও রয়েছেন। যাঁরা থান কেটে জামা তৈরি করে হাটে বিক্রি করেন তাঁদের ওস্তাগর বলে। বহু ওস্তাগর এখন চিন্তায়। মুস্তাফিজুর রহমান খান নামে এক ওস্তাগর বলেন, “বিভিন্ন জেলা থেকে কারিগররা এখানে এসে কাজ করেন যাঁদের মধ্যে রয়েছে নকশা, কাটিং, সেলাই, প্যাকিং-সহ বিভিন্ন কাজে পারদর্শী পুরুষ ও মহিলা। লকডাউনের জন্য সকলেই যে যার নিজের জেলায় ফিরে গেছেন কিন্তু ডোমজুর অঞ্চলে পাকাপাকি ভাবে যে সব কারিগর ও ওস্তাগর আছেন তাঁরা পড়েছেন সমস্যায়। তাঁরাও সংখ্যায় বিপুল। ডোমজুড় কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এইসব মানুষের পাশে আছে রাজ্য সরকার। খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন সহায়তা করা তো হবেই ভবিষ্যতেও এঁদের জন্য ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে যাতে কোনও সমস্যা না হয়।”