দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমানে আটকে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের ৫৪ জন শ্রমিক। তাঁদের ফেরাতে গিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের দুটি বাস। একজন করেই চালক ছিলেন দুটি বাসে। তাঁদের ফেরাতে গিয়ে দু'দিন ধরে বাস দুটি এবং চালকদের সন্ধান মিলছিল না। অবশেষে তাঁরা ফিরলেন দুর্গাপুরে। ফিরে এসে দু'জন চালকই শোনালেন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।
কথা ছিল বিহারের জামুইতে গিয়ে শ্রমিকদের নামিয়ে দেবে বাংলার দু'টি বাস। তারপর বিহার সরকার ওই শ্রমিকদের পৌঁছে দেবে উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত পর্যন্ত। কিন্তু বাস চালকরা জানিয়েছেন, জামুই পৌঁছনোর পরই গোলযোগ বাঁধে। তাঁদের বক্তব্য, জামুইয়ের এসডিও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিহার সরকার কোনও গাড়ির বন্দোবস্ত করবে না। বাংলার বাস দুটিকেই যেতে হবে উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত।
চালকদের অভিযোগ, এরপর ওই শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে দেন জামুইয়ের প্রশাসনিক কর্তারা। একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বাংলার দুই বাস চালককে। বাধ্য হয়ে বাস নিয়ে উত্তরপ্রদেশের দিকে রওনা দেন বাংলার দুই চালক। এক চালক বলেন, আমরা বলেছিলাম তেল দিন, আমরা নামিয়ে দিচ্ছি। ওঁরা স্পষ্ট বলে দেন বাংলার সরকার দেবে। বিহার ওই খরচ দেবে না।
গত ৯ মে বাস দুটি রওনা দিয়েছিল। তারপর আর খোঁজ ছিল না বাস দুটির। গতকাল রাতে জানা যায় একটি বাসের খোঁজ মিলেছে বারাণসীতে। গতকাল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান তমোনাশ ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য আন্তঃরাজ্য পারমিট না থাকার জন্য বিহার সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিহার সরকার জোর করে এই কাণ্ড করেছে।
দুই বাস চালকের না ফেরা পর্যন্ত প্রশাসনের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েই গেছিল। অবশেষে তার অবসান হল।