দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে বাস চালাতে গেলে আগের ভাড়ায় তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিল বাস মালিকদের সংগঠন। ভাড়ার কাঠামো কেমন হবে তার প্রস্তাব বৃহস্পতিবার পরিবহণ দফতরের কাছে জমা দিল জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট।
ওই প্রস্তাবে কাউন্সিল বলেছে, বেসরকারি বাসে উঠলেই যাত্রীকে ভাড়া দিতে হবে ১৪ টাকা। ওই ভাড়ায় তিনি দু'কিলোমিটার রাস্তা যেতে পারবেন। তারপর প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীদের পাঁচ টাকা করে দিতে হবে। অর্থাৎ কেউ যদি তিন কিলোমিটার যান তাঁকে দিতে হবে ১৯ টাকা। চার কিলোমিটার গেলে গুনতে হবে ২৪ টাকা। যার মোদ্দা হিসেব হাওড়া থেকে ধর্মতলা গেলে বাসের ভাড়া পড়বে ৩০টাকার বেশি।
করোনা সংক্রমণ রুখতে সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে বাসে ২০ জনের বেশি যাত্রী ওঠানোয় কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেই বিধি মেনেই সরকারি বাস পরিষেবা চালু হয়েছে রাজ্যে। কিন্তু বেসরকারি বাস নামেনি। জানা গিয়েছে, এদিন বাস সিন্ডিকেটের তরফে পরিবহণ দফতরকে ভাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে পরিবহণ দফতর। যদিও সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-- দু'জনই ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে গড় রাজি।
বাস সিন্ডিকেটের তরফে আরও বলা হয়েছে, এখন বাস চালানো হবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়। সেগুলি হল, কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার শহরাঞ্চল, আসানসোল এবং দুর্গাপুর। অর্থাৎ গ্রামীণ বাংলায় বাস চালানো হবে না বলেই একপ্রকার বলা হয়েছে বাস মালিকদের তরফে।
গতকাল থেকে অটো এবং ই-রিকশা চলা শুরু হয়েছে রাজ্যে। তার জন্যও ন'দফা গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দু'জনের বেশি যাত্রী নয়, গ্লাভস-মাস্ক-স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক, কন্টেইনমেন্ট জোনে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার মতো বিধি মেনেই গণপরিবহণের এই ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারি বাসও যাবে না কন্টেইনমেন্ট জোনে। তা ছাড়া প্রতিদিন গাড়ির ভিতর ও বাইরেও স্যানিটাইজ করতে হবে।
বহু জায়গায় বিধি মেনে অফিস কাছারি শুরু হয়েছে। রাস্তায় লোকজনও বেরোচ্ছে আগের থেকে বেশি। ফলে বেসরকারি বাস চালু না করলে সরকারি বাস দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এখন দেখার সামনের সপ্তাহে বাস ভাড়ার নতুন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় কিনা।