দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মহিলার অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চাষের জমি থেকে। এই ঘটনায় রবিবার সাতসকালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়।
এদিন সকালে জামালপুর থানার অন্তর্গত নারায়ণপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় দেখতে পান একটি আধপোড়া দেহ পড়ে রয়েছে। গ্রামবাসীরাই খবর দেন পুলিশে। জামালপুর থানার পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে।
মহিলার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। পুলিশের বক্তব্য, মহিলার মুখ থেকে কোমর পর্যন্ত এমন ভাবে পুড়ে গিয়েছে তাতে স্পষ্ট করে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। বর্ধমান দক্ষিণের এসডিপিও আমিনুল খান বলেন, "ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে কী কারণে মৃত্যু বলা সম্ভব নয়।" তবে প্রাথমিক ভাবে দেখে পুলিশ মনে করছে মহিলার বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, খুন করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশেই পুড়িয়ে দেওয়ার পর ধান মাঠে দেহ ফেলে রেখে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। মৃত মহিলাকে যৌন নিগ্রহের পর খুন করা হতে পারে বলেও অনুমান অনেকেরতবে সবটাই স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর।
জামালপুর হল হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের সীমান্ত এলাকা। নারায়ণপুরের এক গ্রামবাসী বলেন, হতে পারে এই মহিলা হুগলির বাসিন্দা। খুন করার পর তাঁকে বর্ধমানের সীমানায় ফেলে রেখে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এমনিতে হুগলির দশঘরা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে বহু ক্ষেতমজুর জামালপুরে চাষের কাজে যান। জামালপুর তথা বর্ধমানের অনেক জায়গা থেকে ক্ষেতমজুররা হুগলির মাঠেও খাটতে আসেন। ফলে এই বক্তব্য অযৌক্তিক নয় বলেই মনে করছে পুলিশ।
তবে প্রশাসনের এখন একটাই লক্ষ্য, তা হচ্ছে মহিলার পরিচয় জানা। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, পূর্ব বর্ধমান জেলা লাগোয়া হুগলির একাধিক থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেখানে কোনও নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রথমে মৃতার পরিচয় জানাটা জরুরি। তারপর বের করা যাবে কী কারণে মৃত্যু বা কারা রয়েছে এর পিছনে।