
শেষ আপডেট: 26 February 2020 11:37
এমনই অবস্থা রাসবিহারী বসুর জন্মভিটের[/caption]
রাসবিহারী বসুর পিতা কর্মসূত্রে হুগলি জেলার চন্দননগরে থাকতেন। সেখানকার স্কুল ও কলেজের পাঠ সম্পূর্ণ করে রাসবিহারী বসু স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। ১৯০৮ সালে তিনি আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গোপনে বাংলা, উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের বিপ্লবীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ গড়ে তোলেন। পরে বাঘাযতীনের একনিষ্ঠ অনুগামী হয়ে ওঠেন রাসবিহারী বসু। দিল্লিতে লর্ড হার্ডিঞ্জের কনভয়ে তিনি বোমা ফেলেন। ইংরেজ পুলিশের গ্রেফতারি এড়াতে তিনি দেশ ছাড়েন।
১৯১৫ সালের ১২ মে কলকাতার খিদিরপুর থেকে তিনি জাপানের জাহাজে চড়ে বসেন। জাপানে থেকেও ভারতের স্বাধীনতার জন্য তিনি নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। জাপান সরকার রাসবিহারী বসুকে “সেকেন্ড অর্ডার অব মেরিট অব দি রাইজিং সান” খেতাবে ভূষিত করে।
১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি জাপানের টোকিওতে রাসবিহারী বসু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে বিশাল ভূমিকা থাকলেও রাসবিহারী বসু নিজভূমে উপেক্ষিত রয়ে গেছেন। গ্রামে তাঁর একটি প্রতিকৃতি ছাড়া কার্যত আর কিছু নেই।
রাজ্য সরকার কয়েক বছর আগে তাঁর জন্মভিটেকে পর্যটন স্থান হিসাবে ঘোষণা করেছে, এটি সাজিয়ে তোলার জন্য টাকা বরাদ্দ করেছে। তবে তাতে বাড়িটির হাল ফেরেনি। বিপ্লবীর জন্মভিটেতে এখন কেউ ঘুঁটে দেন, কেউ ধান ঝাড়েন।
রায়না ২ নন্বর ব্লকের বিডিও দীপ্যমান মজুমদার বলেন, “বিপ্লবীর জন্মভিটেতে কেউ ঘুঁটে শুকানো বা ধান ঝাড়ার জায়গা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন না। কেউ তা করে থাকলে ঠিক কাজ করেননি। কেউ যাতে এমন কাজ আর না করেন সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিপ্লবীর জন্মভিটেকে পর্যটন স্থান হিসাবে সাজিয়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫৭ লক্ষ টাকা মিলেছিল। বিপ্লবীর জন্মভিটের চারপাশে গার্ডওয়াল দেওয়ার পাশাপাশি টয়লেট তৈরি হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রে সংগ্রহশালাও রয়েছে। বসানো হয়েছে একাধিক হাইমাস লাইট। দ্বিতীয় দফায় টাকা মিললে আরও কাজ করা হবে।
শৈশবে গ্রামের যে পাঠশালায় তিনি পড়েছিলেন এখন তার নাম হয়েছে সুবলদহ রাসবিহারী বসু প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে পূর্ণ মর্যাদায় সংরক্ষিত রয়েছে বিপ্লবীর চিতাভস্ম। এমন ঐতিহ্যশালী বিদ্যালয়েরও এখন ভগ্নদশা।
[caption id="attachment_190024" align="aligncenter" width="1280"]
রাসবিহারী বসু এখানেই পড়েছেন[/caption]
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নতির দাবি নিয়ে তিনি প্রশাসনের নানা মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কিন্তু তাঁকে হতাশ হয়েই থাকতে হয়েছে।
বর্ধমানের বিশিষ্ঠ ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ বলেন, “বিপ্লবীকে সরকার মর্যাদা দিতে চাইলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এজন্য প্রশাসন ও সুবলদহ গ্রামের বাসিন্দাদের আরও আন্তরিক হতে হবে।”