
শেষ আপডেট: 15 February 2020 09:25
পড়ে আছে সেইসব কাটা গাছ[/caption]
এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল পরিচালিত বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শেখ আব্দুস সালাম। ঘটনা সবিস্তার উল্লেখ করে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সভাধিপতি ও জামালপুরের বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বৃক্ষ পাট্টা প্রাপকরা ।
প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে দায়ের করা অভিযোগে আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, রায়নার বাঁদগাছা থেকে জামালপুরের কৃষ্ণরামপুর পর্যন্ত যাবার একটি পাকা রাস্তা আছে। সেই রাস্তাতেই বেরুগ্রাম অঞ্চলের শম্ভুপুর থেকে নসিপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিমি অংশের দু’পাশে বৃক্ষ পাট্টা প্রাপকরা গাছ লাগিয়ে ছিলেন। তাঁরাই পরিচর্যা করে গাছগুলি অনেক বড় করেন। ওই পাকা রাস্তাটি চওড়া করার কাজ সবে মাত্র শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে গত সাতদিন ধরে দিনের আলোয় বৃক্ষ পাট্টার জায়গায় থাকা লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ কাটা শুরু হয়। পরে সেই গাছ পাচার করে দেওয়া হয়। আব্দুস সালাম বলেন, কারা গাছ কেটে পাচার করল তা জানতে তিনি পঞ্চায়েত অফিসে যান। পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গাছ কাটার কোনও টেন্ডার পঞ্চায়েত দেয়নি। তাহলে দিনের আলোয় বৃক্ষ পাট্টার জায়গায় থাকা মূল্যবান গাছ কেটে পাচার কারা করল? এই প্রশ্নের উত্তর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
আব্দুস সালাম বলেন, দুর্নীতিগ্রস্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে এমনটা নিশ্চিত হয়ে তিনি প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মোবিন দাবি করেছেন, গাছ কেটে পাচারের ঘটনা ওই এলাকার লোকজনই ঘটিয়েছেন। গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে এই খবর জানার পরে তিনিই স্থানীয় বিডিও এবং জামালপুর থানায় বিষয়টি জানান।
স্থানীয়রা অবশ্য উপপ্রধানের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পাল্টা দাবি করে তাঁরা বলেন, প্রশাসনিক কর্তারা এই ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত করুক, তাহলেই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রশাসন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাইলে তাঁরা ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করে বিষয়টি জানাবেন।
[caption id="attachment_187105" align="aligncenter" width="960"]
সকলেরই বক্তব্য, তাঁরা কেউই জানেন না গাছ কারা কেটেছে[/caption]
জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন, অভিযোগ আসার পরেই খোঁজ নিয়ে জানা যায় গাছ কাটা হয়েছে। তখনই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে।
জামালপুর থানার ওসি পুষ্পেন্দু জানা অবশ্য বলেছেন, পুলিশ গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করিয়েছে এমন বক্তব্য সঠিক নয় তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।