দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমানের গলসিতে পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধার আর্তনাদ শুনে তাঁর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এলেন প্রতিবেশীরা। গলসির পুরসা মুসলমানপ্রধান গ্রাম। হাতে গোনা কয়েক ঘর হিন্দুর বাস। এক মুসলমান ব্যক্তির বাড়ির এক পাশে বাস করেন হিন্দু বিধবা নেবি কর্মকার। তাঁর চিৎকার শুনে এসে সমস্যার কথা জেনে অপারেশনের ব্যবস্থা করেন প্রতিবেশী মুসলমান যুবকরা।
দীর্ঘদিন ধরে পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন নেবি কর্মকার। কয়েক বার নিজে উদ্যোগী হয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে রোগ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন অপারেশন করানো, এজন্য টাকা দরকার। সেই সংস্থান নেই তাঁর পরিবারের।
বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে রাজু কর্মকার এখন নব্বই শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছেলের স্ত্রী কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন, ঘরের সব কাজও তাঁকেই করতে হয়। সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই। এই অবস্থায় অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।
মঙ্গলবার তাঁর আর্তনাদ শুনতে পান পুরসা গ্রামের লালন শেখ। তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ওই বৃদ্ধাকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে যান। অপারেশনের পরে ওষুধ ও অন্যান্য খরচ বহন করার আশ্বাস দিয়েছেন লালন ও তাঁর বন্ধুরা।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন অসহিষ্ণুতার কথা প্রকাশ্যে আসছে, দিল্লিতে যখন সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে তখন সম্প্রীতি বা সহিষ্ণুতা নয়, মানবতার নজির দেখা গেল বর্ধমানের এই গ্রামে।