শেষ আপডেট: 13 March 2020 10:47
নাচের অনুষ্ঠানে সপ্তপর্ণা[/caption]
সপ্তপর্ণা শুধুমাত্র চোখে দেখেন না। ব্যস এটুকুই। বাকিটা আর পাঁচজনের মতোই। প্রথমে তিনি ব্রেইল হরফে পড়াশোনা করতে শুরু করেছিলেন। এখন অবশ্য সেসবের ধার ধারেন না। তাঁর মা তাঁকে পড়ে শোনান। শ্রুতিধর সপ্তপর্ণা তা মনে রাখেন। তিনি পরীক্ষা দেন আর পাঁচজনের মতো। পার্থক্য শুধু একটাই। তাঁর সঙ্গে একজন রাইটার থাকেন। মাধ্যমিকে তিনি পেয়েছেন বাহাত্তর শতাংশ নম্বর। কাটোয়ার কাশীশ্বরী বিদ্যালয়ের ছাত্রী সপ্তপর্ণা এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষাবিজ্ঞান, সংস্কৃত ও মিউজিক নিয়ে। তাঁর সিট পড়েছে কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরী বালিকা বিদ্যালয়ে।
সপ্তপর্ণার বাবা তন্ময় মণ্ডল প্রথম থেকেই মেয়ের ইচ্ছাশক্তির মর্যাদা দিয়ে এসেছেন। সুলক্ষণার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন যাতে তাঁদের মেয়ে বেড়ে উঠতে পারে আর পাঁচজনের মতো করেই তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি গান ও নাচেও মেয়েকে তালিম দেওয়া শুরু করেন তাঁরা।
[caption id="attachment_195473" align="aligncenter" width="1040"]
অনুষ্ঠান শেষে সহশিল্পীদের সঙ্গে সপ্তপর্ণা (ডান দিক থেকে দ্বিতীয়)[/caption]
রাইটার কৌশিক কুণ্ডুর হাত চেপে ধরে আজ পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে যখন বেরচ্ছেন সপ্তপর্ণা তখন তিনি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। রবীন্দ্রসঙ্গীতেই নাকি সপ্তপর্ণার শক্তির বীজ লুকিয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর প্রেরণা বলে জানালেন সপ্তপর্ণা। রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় চরণ হল – ‘অন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহি রে’। অন্তরের আলোকেই তিনি এখন আলোকিত। তিনি চান সেই আলোকে অন্যদের আলোকিত করতে।
সপ্তপর্ণা বলেন, “প্রতিবন্ধী হয়ে যদি নিজের জীবন প্রতিবন্ধীদের জন্য উৎসর্গ করতে পারি তাহলে আমার ভাল লাগবে।” তাঁর কথায়, “আমার বেঁচে থাকা শুধু নিজের জন্য নয় বরং আর পাঁচজন দৃষ্টিহীন যাতে চারপাশের অসীম অন্ধকারের মধ্যেও আলোর সোনালি রেখার সন্ধান পেতে পারে সেই জন্যে।” তাঁর অনুপ্রেরণা রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘অন্ধজনে দেহ আলো’।
সপ্তপর্ণা চান আগামী দিনে গান নিয়ে এগিয়ে যেতে, গানে প্রতিষ্ঠিত হতে।