ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমান পুরসভার অন্তর্গত একটি পাড়া। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিধানপল্লি এলাকা। গত আট বছরে এই এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ। নেই রাস্তাঘাট, বেহাল নিকাশি, পানীয় জল নিয়েও রয়েছে হাজার সমস্যা। সম্প্রতি এলাকার মানুষ চাঁদা তুলে রাস্তায় রাবিস ফেলে চলার উপযোগী করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ে কর দেওয়ার পরেও কেন প্রশাসনের এই আচরণ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এই নিয়ে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ‘দিদিকে বলো’তেও অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বিধানপল্লিতে রেললাইনের পাশে পূর্বমাঠ নামে একটি পাড়া রয়েছে। বিধানপল্লি স্কুল মাঠ থেকে বাঁদিকে কিছুটা এগিয়ে গেলে দেখা যাবে হঠাৎই রাস্তা কাঁচা। কোনও দিনই এই রাস্তা ঢালাই হয়নি বা পিচের প্রলেপ পড়েনি। এবড়োখেবড়ো ইট বেরিয়ে থাকা উঁচু নীচু রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন পূর্বপাড়ার কুড়ি বাইশটি পরিবার।
পাড়ার মধ্যে প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তার হাল খারাপ। এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত আট বছর ধরে তাঁরা এই এলাকায় থাকলেও এই রাস্তায় কোনওদিন কাজ হতে দেখেননি। এছাড়াও রাস্তার পাশে এই এলাকায় কোন পাকা নর্দমা নেই ফলে নিকাশি বেহাল।
ফি বছর বর্ষায় এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। পূর্বপাড়ার কিছুটা অংশে পানীয় জলের কল এলেও বাকি অংশে এখনও পৌঁছয়নি পানীয় জলের পাইপ। একটি ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা একটি পাড়া কেন এই ভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা পূজা রায়, কল্পনা মণ্ডল, গৌতম মালিকরা বলেন, প্রতিবার রাস্তা খারাপ হলে তাঁরা পাড়া থেকে চাঁদা তুলে রাস্তায় রাবিস ফেলে রাস্তা ঠিক করেন। প্রশাসন নির্বিকার।
গত বছর ডিসেম্বর মাসে এ নিয়ে বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তাতেও কোনও লাভ হয়নি।
জানুয়ারি মাসের শেষদিকে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতেও এলাকার বেহাল পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। একমাস কেটে গেলেও তাতে কেনও কাজ হয়নি। তাঁদের দাবি, দ্রুত তাঁদের এলাকার দিকে নজর দিক প্রশাসন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে বর্ধমান পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক অমিত গুহ বলেন, “বিষয়টি জেনেই আমি ইঞ্জিনিয়রকে এই এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।”