দ্য ওয়াল ব্যুরো: চৌষট্টি বছর বয়সেও যুবকই বলা যায় বর্ধমান শহরের কাঁটাপুকুর এলাকা কানাইলাল শেঠকে। বলা যাবে নাই বা কেন! বয়স ৬৪ হলেও কানাইলাল শেঠ এখনও রাজ্য ও ন্যাশনাল দৌড়ে যোগ দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময় ছিনিয়ে নিয়ে আসছেন একের পর এক পদক। বুড়ো হাড়ে যেন ভেল্কি দেখাচ্ছেন এই প্রবীণ দৌড়বিদ। দেরাদুনে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল মিট থেকেও পদক জিতেই তিনি ঘরে ফিরেছেন। এই মিট অবশ্য প্রবীণ নাগরিকদের জন্য।
রানিগঞ্জ বল্লভপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন কানাইলাল শেঠ। অবসরের পরে এখনও শিক্ষকতা করে চলেছেন তিনি। অতিথি শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে বামুনিয়া জুনিয়র হাইস্কুলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার পাশাপাশি তিনি পড়ে রয়েছেন মাঠে।
ছোট থেকেই খেলাধুলোর প্রতি তাঁর আগ্রহ। ছোট থেকে বিভিন্ন জেলা মিটে যোগ দিয়ে অর্জন করেছেন বহু পদক। যৌবনে অল ইন্ডিয়া রুরাল মিটে যোগ দিয়ে মিলেছে সাফল্য। এখন বয়স বেড়েছে, চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন কিন্তু খেলায় ছেদ পড়েনি কানাইলাল শেঠের।
২০১৯ সালে তিনি যোগ দিয়েছিলেন দেরাদুনের ন্যাশনাল মিটে। ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ওই মিটে ৮০০ মিটারে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। সম্প্রতি মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিত রাজ্য মিটেও তাঁর ঝুলতে আসে দুটি পদক। ৮০০ ও ১৫০০ মিটার দৌড়ে তিনি তৃতীয় স্থান পেয়েছেন।
এই বয়সেও রাজ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছেন। ছোটখাটো নানা মিটে নিয়মিত যোগ দিয়ে চলেছেন তিনি। প্রশ্ন হল কী ভাবে এসব সম্ভব হচ্ছে? এই সাফল্যের রহস্য কী? তাঁর কথায়, “শরীরচর্চাই একমাত্র পথ। সকালে মাঠে গিয়ে ঘণ্টা দুয়েক শরীরচর্চা এবং বিকালে কয়েক মাইল হাঁটা, সঙ্গে পরিমিত খাওয়াদাওয়া – এতেই মিলছে সাফল্য।” এছাড়া স্ত্রী সান্ত্বনা শেঠও এব্যাপারে তাঁকে প্রেরণা জোগান। যতদিন তাঁর মা গীতারানি শেঠ বেঁচে ছিলেন তত দিন তিনিও ছেলেকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই তাঁর ছুটে চলা।
তিনি চান, যতদিন বেঁচে থাকবেন তত দিন তিনি নানা ইভেন্টে যোগ দিতে থাকবেন। ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষজনকে তাঁর উপদেশ, “সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। পরিমিত জীবনযাপন করুন তাহলে আপনিও জীবনের দৌড়ে এভাবে চলতে পারবেন।” আগামী দিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক মিটে তিনি যোগ দিতে চান বলে কানাইলালবাবু জানান।