
শেষ আপডেট: 3 February 2019 11:21
বেলা বারোটা পঁচিশ। বুদ্ধবাবুর স্ত্রী ফোন করেন ওই সিপিএম নেতাকে। জানান, স্নানের পরে শ্বাসকষ্ট হয় বুদ্ধবাবুর। সেটা আজ ততটা নেই। নিজেই বলেছেন, “আমি পারব। জানিয়ে দাও যাচ্ছি।” ব্রিগেডের মূল মঞ্চের পিছনের ক্যাম্পে তখন সীতারাম ইয়েচুরি, সূর্যকান্ত মিশ্ররা পোঁছে গিয়েছেন। মীরাদেবীর ফোন পাওয়ার পর খানিকটা উত্তেজিত হয়েই ওই সিপিএম নেতা চিৎকার করে বলে ওঠেন, “সূর্যদা...... বুদ্ধদা মিটিং-এ আসছেন।”
বেলা পৌনে একটা। ধবধবে সাদা পাজামা, পাঞ্জাবী পরে তৈরি হয়ে নেন বুদ্ধবাবু। বেলা বারোটা আটান্ন। প্রায় দেড় বছর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির বাইরে বেরোলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা।
চেহারা ভাঙেনি তেমন। কিন্তু হাঁটায় এসেছে জড়তা। স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য এবং নিরাপত্তারক্ষী ধরে ধরেই বাইরে আনেন তাঁকে। উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকে হাত নেড়ে গাড়িতে ওঠেন সস্ত্রীক বুদ্ধবাবু।
বেলা একটা চার। তিন গাড়ির কনভয় পাম অ্যাভিনিউ থেকে রওনা দেয় ব্রিগেডের দিকে। পার্ক সার্কাস, এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভার, রেসকোর্স হয়ে বেলা ঠিক একটা কুড়ি মিনিটে ব্রিগেডের মূল মঞ্চের সামনে এসে থামে বুদ্ধবাবুর গাড়ি।
ফুসফুসের সমস্যা ছিলই। গত দেড় বছরে বুদ্ধবাবুর মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে চোখ। কয়েক মাস আগেও চোখে আলো পড়লে যন্ত্রণা হতো তাঁর। পুজোর সময় তাঁর লেখা 'নাৎসি জার্মানির জন্ম ও মৃত্যু' নামক একটি বই প্রকাশ হয়েছিল। তার শেষ অংশ নিজে লিখতেও পারেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছর তাঁর সঙ্গে বাড়িতে দেখা করতেও গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নেতাদের শত অনুরোধেও হাসপাতালে ভর্তি হননি বুদ্ধবাবু। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তাঁর।
২০১৫-এর ২৭ ডিসেম্বর বামেদের শেষ ব্রিগেডে তিনিই ছিলেন সভা পরিচালনার দায়িত্বে। এ বার এলেন। কিন্তু মঞ্চে উঠলেন না। বহু বছর পর বাম ব্রিগেডের মঞ্চে বুদ্ধবাবুকে দেখা গেল না। কিন্তু জেদের বশেই এলেন মাঠে। নাকে অক্সিজেনের নল লাগিয়েই। বুদ্ধহীন হলো না ব্রিগেড।
আরও পড়ুন:
https://thewall.in/2019/02/news-kolkata-cbi-officers-in-front-of-rajeev-kumars-house/