বারাবনিতে প্লাবিত কাল্লার সেতু, স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার স্রোতে ভেসে যাওয়া সাইকেল আরোহী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা চার দিন ধরে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টির ফলে নুনী নদির জলে প্লাবিত হয়ে গেছে কাল্লার সেতু। সেতুটি বারাবনি থেকে দোমহানি যাওয়ার প্রধান রাস্তার উপরে অবস্থিত। এই সেতু ভেসে যাওয়ার ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্
শেষ আপডেট: 7 July 2020 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা চার দিন ধরে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টির ফলে নুনী নদির জলে প্লাবিত হয়ে গেছে কাল্লার সেতু। সেতুটি বারাবনি থেকে দোমহানি যাওয়ার প্রধান রাস্তার উপরে অবস্থিত। এই সেতু ভেসে যাওয়ার ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সমস্যায় পড়েছেন বেশ কয়েক হাজার গ্রামবাসী।
অবিরাম বর্ষণের ফলে কয়েক দিন ধরেই নুনী নদীর জলস্তর বাড়ছিল। সোমবার থেকে কাল্লার কাছে থাকা সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে দেয়। সেই অবস্থাতেও বিপদের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে সেতু পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। যোগাযোগের তেমন কোনও উপায় না থাকায় জীবন বিপন্ন করেই তাঁরা এই সেতু ব্যবহার করছিলেন। তারই মধ্যে সোমবার বিকালে এক সাইকেল আরোহী এই সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় স্রোতের টানে ভেসে যান। স্থানীয়দের তৎপরতায় অবশ্য তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় নদীর জলে এই সেতু ভেসে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত সমস্যায় পড়তে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। বাস ও অন্যান্য গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছু দিন আগে সেতু নতুন করে তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু লকডাউনের কারণে সেই সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
[caption id="attachment_237334" align="aligncenter" width="697"]

সেতু প্লাবিত হওয়ায় চিন্তিত এলাকার বাসিন্দারা।[/caption]
আসানসোল পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যাম সরেন বলেন, “গত বছর বর্ষায় সেতুটি ভেঙে গিয়েছিল। তারপরে সময়মতোই কাজ শুরু হয় কিন্তু করোনার জেরে লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজ মাঝ পথে থমকে যায়। সেতুটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ওর উচ্চতাও বেড়ে যাবে। ফলে বর্ষায় নুনী নদীর জল ছাপিয়ে আর সেতুর উপর দিয়ে বইবে না। সমস্যাও মিটে যাবে”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকাল শেষ না হলে নতুন করে ওই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে এবছর সমস্যার মধ্যেই কাটাতে হবে বারাবনির বাসিন্দাদের। চুরুলিয়া যাওয়ার জন্য গ্রামের বাসিন্দাদের এই সেতুর উপরে ভরসা করতে হয়। আবার কাটোয়া হাসপাতালের যাওয়ার জন্যও এই সেতুই ভরসা।
এমনিতেই বারাবনির বিভিন্ন রাস্তা খারাপ। বর্ষায় রাস্তার অবস্থা এমন হয়ে পড়েছে যে সেখানে বাচ্চারা স্নান করতে শুরু করেছে। এবার চলাচলের ভরসা একমাত্র সেতুটি প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বারাবনির সড়ক যোগাযোগ। সোমবার বিকেলের ঘটনার পরে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাইকেল ও মোটর সাইকেল আরোহীরা। তবুও তাঁদের ঝুঁকির পারাপার করতেই হচ্ছে।