দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পরে পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে বাড়ির অদূরে একটি বনে শুক্রবার ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল বৌদি ও দেওরের দেহ। এলাকার এক কিশোর ওই দুজনকে একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছে দেহ দু’টি উদ্ধার করে।
রানিগঞ্জের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মহাবীর কোলিয়ারির সাহেব কুঠি এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে দেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, খনির কর্মী ফাগু বাউড়ি ১৩ এপ্রিল নিখোঁজ হয়ে যান বাড়ি থেকে। সেই একই দিনে নিখোঁজ হয়ে যান চম্পা বাউড়ি। তিনি ফাগু বাউড়ির নিজের বড় দাদার স্ত্রী।
এই ঘটনার পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরে প্রচুর খোঁজাখুঁজি করার পরেও তাঁদের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার সকালে এলাকার লোকজন নিখোঁজদের বাড়ি থেকে মাত্র একশো মিটার দূরে ফাগু ও চম্পার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। একটি গাছ থেকে তাঁদের দেহ ঝুলছিল।
করণ বাউড়ি নামে এক কিশোর প্রথম তাদের দেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, “সকালে আমি বনের দিকে যাচ্ছিলাম। তখন দেখি ওরা দুজনে গাছে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। আমি তখন ওদের বাড়িতে গিয়ে সেই খবর দিই। কেন ওরা আত্মহত্যা করল সে কথা বলতে পারব না।”
এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরে ওই দু’জনের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে হঠাৎই বাড়ির বাইরে নিজের গাড়ি রেখে চলে যান ফাগু বাউড়ি। তা দেখে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করেন। তখন এক কিশোর তাঁদের বাড়ির সদস্যদের খবর দেন যে বনের মধ্যে সে ফাগুর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়েছে।
স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, প্রণয় ঘটিত কারণে তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এলাকার বাসিন্দা মাধুরী বাউড়ি বলেন, “ওরা একই পরিবারের। এমন সম্পর্ক যে ছিল তা আমরা কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারিনি। কোনও দিন এসব নিয়ে কোনও ঝগড়া-অশান্তিও শুনিনি। এক দিন যখন জানলাম যে ওদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তখন সন্দেহ হয়েছিল। খোঁজাখুঁজি করি আমরাও। তবে ওদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ সকালে ওদের ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি।”
পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে।