দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিনাজপুরে উদ্ধার একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাদের মধ্যে রয়েছে দু'জন কিশোরীও। জানা গিয়েছে তপন থানা এলাকার দক্ষিণ জামালপুরে ওই পরিবারের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে তাদের দেহ। প্রতিবেশীদেরই প্রথম নজরে আসে এই ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। তারা এসে দেহগুলি উদ্ধার করেছে। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে হতভম্ব পাড়ার সকলে। মৃত্যুর কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতেরা হলেন উলো বালা বর্মন (৬০), তাঁর ছেলে অনু বর্মন (৩২), অনুর স্ত্রী মল্লিকা বর্মন (২৮) এবং দম্পতির দুই কন্যা সন্তান বিউটি বর্মন (১০) ও স্নিগ্ধা বর্মন (৭)। আজ সকালে অনু বর্মনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে। সপরিবার আত্মঘাতী হয়েছেন, নাকি মা, স্ত্রী ও মেয়েদের খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন অনু তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, জামালপুরের বাসিন্দা অনু বর্মন পেশায় ছিলেন চাষি। স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল তাঁর জমিতে ধান কাটার কাজ শেষ হয়েছিল। রাতে বাড়িতে ছিল খাওয়া-দাওয়ার একটা অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন এলাকার অনেকেই। আজ সকালে অনুর বাড়িতে ধানকাটার মেশিন আনতে গিয়েছিলেন এক প্রতিবেশী। বারবার ডাকডাকি করেও সাড়াশব্দ না মেলায় সন্দেহ হয় ওই প্রতিবেশীর। এরপর দরজায় ধাক্কা দিতেই সেটি খুলে যায়। তারপরেই বীভৎস দৃশ্য নজরে আসে ওই প্রতিবেশীর।
কোনও কারণে অনু বর্মন অবসাদে ভুগছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অবসাদের কারণে পরিবারের বাকি সদস্যদের মেরে গৃহকর্তা আত্মঘাতী হয়েছেন কিনা সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই পরিবারের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা বা সম্পত্তির কারণে বিবাদ ছিল কিনা তাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। আপাতত বাড়ি সিল করে দিয়েছে তপন থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছেন পাঁচ জনের দেহ।