দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পুর বোর্ডের কাউন্সিলর দের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবেন গঙ্গারামপুরের অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা। প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নবনিযুক্ত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্থির করেছে তারা প্রথমে পানীয় জলের উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। তার পরেই রয়েছে নিকাশি ব্যবস্থাকে।
গঙ্গারামপুর পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান অমলেন্দু সরকারকে বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের প্রধান করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অর্পিতা ঘোষ, গৌতম দাস, প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান রাকেশ পণ্ডিত ও প্রাক্তন কাউন্সিলর অশোক বর্ধন।
দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বুধবার। বৃহস্পতিবার ২১ মে থেকে গঙ্গারামপুর পুরসভা পরিচালিত হচ্ছে বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের অধীনে। বুধবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সচিবের পাঠানো নির্দেশে জানানো হয়েছিল পাঁচ জনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বোর্ড পরিচালনা করবে এই পুরসভা।
গৌতম দাস গঙ্গারামপুরের বিধায়ক। কংগ্রেসের হয়ে জয়ী হলেও পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। অর্পিতা ঘোষ বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ। আগে তিনি বালুরঘাটের সাংসদ ছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তখন অভিযোগ ওঠে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মিত্র নিজে ওই আসনে প্রার্থী হতে পারেননি বলে অর্পিতার হয়ে ঠিক মতো কাজ করেননি। পরে বিপ্লব মিত্রের বদলে জেলা তৃণমূল সভাপতি হন অর্পিতা। বেশ কয়েক জনকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন বিপ্লব।
২০১৫ সালে পুর নির্বাচনে গঙ্গারামপুরে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস। এখানে ১৮টি আসনের প্রতিটিতেই জয়ী হয় তৃণমূল। জয়ের পরে প্রথম বোর্ড মিটিং হয় ২১ মে।
লোকসভার ভোটের পরে বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁর সঙ্গে গঙ্গারামপুরের দশ জন কাউন্সিলরও যোগ দেন বিজেপিতে। তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্র তখন গঙ্গারামপুরের পুরপ্রধান। তখন প্রশান্ত মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়। এই অবস্থায় এগারো জন প্রশান্ত মিত্রের বিরুদ্ধে ভোট দেন। ছ’জন অনাস্থা ভোটে অনুপস্থিত ছিলেন। একজন বিজেপিতে থাকলেও তিনি তৃণমূলের পক্ষেই ভোট দেন। ফলে হেরে যান প্রশান্ত মিত্র। তখন অমলেন্দু সরকারকে গঙ্গারামপুরের পুরপ্রধান করা হয়। হেরে যাওয়ার পরে প্রশান্ত মিত্র বিজেপিতে যোগ দেন।
গত বছর ৫ অগস্ট থেকে পুরবোর্ড সামলে আসছেন অমলেন্দু সরকার। তাঁর আমলে উপপুরপ্রধান করা হয় রাকেশ পণ্ডিতকে। বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরে তিনিও রয়েছেন।