দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কলকাতা ও হাওড়ায়। পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিজেপি কর্মীরা এগনোর চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামানের ব্যবহার করে। তারমধ্যেই হাওড়া ময়দান এলাকায় দেখা যায়, এক বিজেপি কর্মীকে ঘিরে ধরেছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীরা। তারপরেই জানা যায় তাঁর কাছ থেকে পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। এমনকি ম্যাগাজিনও ছিল তাতে। সঙ্গে সঙ্গে ওই কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। পরে অবশ্য তার সাফাই দিল বিজেপি। জানানো হল, ওই কর্মী এক বিজেপি নেতার দেহরক্ষী। তাঁর কাছে যে পিস্তল পাওয়া গিয়েছে তার লাইসেন্স রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজেপির রাজ্য দফতর মুরলীধর সেন স্ট্রিটে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানেই প্রথমে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, যে কর্মীর কাছ থেকে পিস্তল উদ্ধার হয়েছে উনি বিজেপির যুব মোর্চার নেতা প্রিয়াঙ্কুর পাণ্ডের দেহরক্ষী। ওনার বন্দুক কেড়ে নিয়েছে পুলিশ।
তারপরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা আগেই এই বিষয়টা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি। উনি বিজেপি নেতার দেহরক্ষী। তাই তাঁর কাছে বন্দুক ছিল। তাঁর নাম বলবিন্দর সিং। ওই বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে।” উলটে পুলিশই বিজেপি কর্মীদের প্রাণে মারার জন্য হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য সভাপতি।
যদিও পরে ভবানীভবনে সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কলকাতা থেকে ৮৯ ও হাওড়া থেকে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এবার পুলিশ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।”
এই পিস্তল উদ্ধারের পরেই অবশ্য বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি একটা রাজনৈতিক দল নয়। বিজেপি হল সন্ত্রাসবাদী দল। ওরা বাংলার শান্তি নষ্ট করতে এসেছে। রাজ্যকে অশান্ত করতে চায় বিজেপি।
এই ঘটনার পরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপি কর্মীর কাছে পিস্তল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় যতই বিজেপি নেতৃত্ব সাফাই দিক না কেন, এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পক্ষে ভাল ঘটনা নয়। কারণ যখন বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ চলছে, তখন ওভাবে কারও কাছে পিস্তল থাকলে যে কোনও অপ্রিয় ঘটনা ঘটতেই পারত। যতই পিস্তলের লাইসেন্স থাকুক না কেন, সেই সময় এই পিস্তল থেকে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারত। তাই সেই সময় পিস্তল বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ ঠিক কাজই করেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।