দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-র ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে গেল হাওড়া কর্পোরেশনের গেটের বাইরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলল লাঠি। চালাতে হল জলকামান। পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী।
নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয়নি হাওড়া কর্পোরেশনের। বসানো হয়েছে প্রশাসক। দ্রুত কর্পোরেশন নির্বাচন করতে হবে, এই দাবি নিয়েই হাওড়া পুরনিগমের সদর দফতর ঘেরাও-এর কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। সকাল থেকেই প্রশাসন আন্দাজ করে নিয়েছিল, আন্দোলন নিরামিষ হবে না। তাই স্টিলের ব্যারিকেড দিয়ে, জল কামান এনে একেবারে সাত সকাল থেকে সাজ সজ্জা তৈরি রেখেছিল হাওড়া কমিশনারেট। বেলা সওয়া বারোটা নাগাদ ময়দানের দিক থেকে কর্পোরেশনের দিকে আসতে শুরু করে মিছিল। বিরাট জমায়েতের বিজেপি-র মিছিল ফ্লাই ওভারের নীচের প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে দেয়। বেশ কিছু বিজেপি কর্মী দ্বিতীয় ব্যারিকেড টপকে কর্পোরেশনের গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। তখনই লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। চালানো হয় জল কামানও।
বিজেপি-র হাওড়া জেলার অন্যতম নেতা উমেশ রাই বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভয়ে নির্বাচন করছে না। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন, ভোট হলেই কর্পোরেশন আর ওঁর দলের হাতে থাকবে না।” তাঁর কথায়, “আজকের আন্দোলন ছিল ট্রেলর। কর্পোরেশন ভোটের দাবিতে আরও বড় আন্দোলন হবে আগামী দিনে।”
প্রশাসক বসানোর পর যে হাওড়া শহরের কাজকর্ম ঠিকঠাক হচ্ছে না তা একপ্রকার মেনে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক মাস আগে বীরভূমের প্রশাসনিক সভা থেকে বলেছিলেন, “আমি শুনেছি হাওড়ায় ময়লা পরিষ্কার হচ্ছে না। এটা কেন হবে! বোর্ড নেই বলে মানুষ কি পরিষেবা পাবে না?” পরের দিনই হাওড়া কর্পোরেশনের কমিশনার বিজিন কৃষ্ণনের সঙ্গে বৈঠক করতে ছুটেছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরফাদ হাকিম।
গত এপ্রিল মাসেই হাওড়া আদালতের আইনজীবেদের সঙ্গে কর্পোরেশনের অস্থায়ী কর্মীদের খন্ডযুদ্ধে তুলকালাম কাণ্ড হয়েছিল। তারপর দীরঘ দিন বন্ধ থেকেছে আদালতের কাজ। হস্তক্ষেপ করতে হয় হাইকোর্টকে। অনেকের মতে, ওই সৃতি থেকেই এ দিন প্রশাওস্ন যেন বাড়তি তৎপর ছিল।