দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বাংলা বিজেপি। সোমবার তার দিন ঘোষণাও হয়ে গেল। ভোটের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যের পাহাড় থেকে সাগর, দিঘা থেকে জঙ্গলমহল—মোট পাঁচটি রথযাত্রা বের করতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
প্রথম রথযাত্রাটি শুরু হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। প্রভু চৈতন্যের ভিটে নবদ্বীপ ধাম থেকে শুরু হয়ে তা শেষ হবে ব্যারাকপুরে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ ঘুরবে এই রথটি। তারপর ৮ ফেব্রুয়ারি দুটি রথযাত্রা শুরু হবে রাজ্যের দুটি জায়গা থেকে। একটি কোচবিহারে শুরু হয়ে শেষ হবে মালদহে। গোটা উত্তরবঙ্গ কভার করবে এই রথযাত্রা। ওইদিন কাকদ্বীপ থেকে আরও একটি রথযাত্রা শুরু হবে। যা শেষ হবে কলকাতায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা জুড়ে ঘুরবে এই রথযাত্রা। ৯ ফেব্রুয়ারিও দুটি রথযাত্রা শুরু হবে। একটি ঝাড়গ্রাম থেকে বেলুড় অন্যটি তারাপীঠ থেকে পুরুলিয়া।
সূচি দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাংলার তীর্থস্থানগুলিকে ছুঁতে চাইছে বিজেপি। নবদ্বীপ, তারাপীঠ, বেলুড়মঠ সব জায়গায় পৌঁছবে গেরুয়া রথ। এদিন এই সূচিই অনুযায়ী প্রশাসনিক অনুমতির জন্য নবান্নে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে বিজেপি।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, ২৯৪টি বিধানসভা এলাকা কভার করবে এই পাঁচটি রথযাত্রা। কেন্দ্রীয় নেতারা হাজির থাকবেন এই কর্মসূচিতে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় সমাবেশ হবে। অর্থাৎ, যোগদান মেলা চালানোর পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভার কর্মীদের ভোটের ওয়ার্ম আপ শুরু করাতে রথযাত্রাতেই ভরসা রাখছে বিজেপি।
আটের দশকের শেষ পর্যায়ে এই রথযাত্রার মাধ্যমেই দেশের কোণায় কোণায় পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির নাম। রামজন্মভূমি আন্দোলনকে সামনে রেখে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর যোশীদের সেই রথযাত্রা ভারতের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ঘটনা।
তবে লোকসভা ভোটের আগেও রথযাত্রা করার চেষ্টা করেছিল বঙ্গ বিজেপি। কিন্তু পুলিশ অনুমোদন না দেওয়ায় শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় দিলীপ ঘোষদের। তবে সেই মাওলায় রাজ্যের তরফে বলা হয়, গোয়েন্দা সূত্রে রাজ্য প্রশাসনের কাছে ইনপুট রয়েছে, এই রথযাত্রা বেরোলে বিভিন্ন মিশ্র এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত সেবার রথযাত্রা বাতিল করে দিয়েছিল।
তবে এবার রাজ্য সরকার বা প্রশাসন তেমন কোনও ভূমিকা নেয় কিনা সেটাই এখন দেখার।