
শেষ আপডেট: 22 January 2019 10:31
রাজ্য সরকারের আপত্তি শুনে বিজেপি-র রথযাত্রার প্রস্তাবে সায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। পরিবর্তে বাংলা জুড়ে অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী বেশ কিছু জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি নেতারা। মঙ্গলবার অমিতের প্রথম সভা হয় মালদহে।
বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি সভাপতি। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বার্তা দিয়ে বলেন, গোটা দেশে সব রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন তৈরি হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রে তো হয়েছেই। কিন্তু বাংলায় পঞ্চম পে কমিশনের পর আর কিছু হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং অন্য রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা যা মহার্ঘ ভাতা পান তার অর্ধেকও পান না বাংলার কর্মচারীরা। হিসাব মতো কেন্দ্রের মহার্ঘ ভাতার তুলনায় বাংলার কর্মচারীদের ডিএ মাত্র ৪৯ শতাংশ। কিন্তু বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, বাংলায় ক্ষমতায় এলে শপথ গ্রহণের দিনই সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা হবে।
মাঝে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের কী হবে, সেটা অবশ্য জানাননি বিজেপি সভাপতি।
আরও পড়ুন: বাংলার মন্ত্রীরা উল্টে দেওয়া কচ্ছপ, তৃণমূলকে তীক্ষ্ণ খোঁচা মুকুল রায়ের
তবে বেতন বাড়া বা এ ধরনের আশ্বাসের কথা শুনলে কে না খুশি হয়! এ দিনের সভায় অমিত শাহ-র এই ঘোষণা শুনে প্রবল হাততালি পড়ে।
বস্তুত, অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা ভুলে দলমত নির্বিশেষ সব রাজনৈতিক দলই এখন পপুলিজমের পথে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যের ভোট ফলাফলে দেখা গিয়েছে, এ ধরনের ঘোষণা ইতিবাচক প্রভাবও ফেলছে। যেমন, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ের ভোটে কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী প্রচারের সময় বলেছিলেন, জিতলেই কৃষিঋণ মকুব করবে কংগ্রেস সরকার। কথা মতো কাজ। শপথ গ্রহণের দিনই কৃষি ঋণ মকুব করে দেন মধ্যপ্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। একই পথে হাঁটে রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ও। সন্দেহ নেই, বাংলাতেও সেই মডেলই অনুসরণ করতে চাইছেন অমিত শাহরা।
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতে যাঁরা ভোট দিতে পারেননি, উনিশে তাঁদের বুথে আনতে চায় বিজেপি, ইঙ্গিত অমিত-মুকুলের
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা বিপুল। বিজেপি তাঁদের আস্থা অর্জন করতে চাইছে। কারণ, অমিত শাহরা জানেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ভোটে মানুষকে প্রভাবিতও করতে পারেন।
তবে অমিত শাহকে পাল্টা সমালোচনা করতে ছাড়েনি তৃণমূল। বাংলায় দলের মুখপাত্ররা বলেন, গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল। বাংলায় লোকসভা ভোটে আগে একটা আসন জিতে দেখাক বিজেপি। তার পর সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখবে। সরকারি কর্মচারীদের সম্পর্কে অমিত শাহের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া এ দিন সন্ধেবেলা তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ডিএ-ের ফারাক নিয়ে কথা বলার আগে, নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করুক বিজেপি।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিমাসের ১ তারিখে সরকারি কর্মচারীদের মাইনে হয়। তাঁদের কোনও মাইনে বকেয়া নেই। যেটুকু বকেয়া আছে, তা কেন্দ্র ছাড়ছে না বলে।"
কিন্তু স্বপ্ন তো বিলক্ষ্মণ দেখছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উপড়ে ফেলার শপথ নেওয়ার কথা এ দিনও বলেছেন তিনি যথেষ্ট নাটকীয় ভঙ্গিতে। যার পরে পাল্টা কটাক্ষ করে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, "উনি বাংলার রাজনীতি বোঝেন না। বাই চান্স রাজনীতি করতে চলে এসেছেন। ওঁকে কুস্তি করাই মানাত।"
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-bengal-bjp-targets-those-voters-who-were-deprive-in-panchayet-election-2018/
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-mukul-roy-slams-tmc-from-malda-rally/