দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত মার্চ মাস থেকে রাজ্যে বন্ধ লোকাল ট্রেন পরিষেবা। সম্প্রতি এই পরিষেবা শুরু করার দাবি উঠেছে জনসাধারণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। এমনকি কী ভাবে নিয়ম মেনে এই পরিষেবা শুরু করা যায় তার জন্য রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে রেল। কিন্তু রাজ্যের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। তাই লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় মমতা সরকারকেই দায়ী করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।
শুক্রবার টুইট করে এই অভিযোগ করেন তিনি। টুইটে তিনি রেল মন্ত্রকের তরফে নবান্নে পাঠানো দুটি চিঠির ছবি দেন। একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল গত ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে। সেখানে মেট্রো পরিষেবা ও লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করার জন্য একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রেলের তরফে। জানানো হয়েছিল, রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের তরফে সাহায্য না পেলে এই পরিষেবা চালু করা অসম্ভব।
তারপরে গত ১৩ অক্টোবর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এইচ কে দ্বিবেদিকে আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে রেলের তরফে। সেখানে লেখা রয়েছে, পূর্ব রেলের তরফে কর্মীদের জন্য কিছু স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে এই সব ট্রেনগুলিতে সাধারণ মানুষ ওঠার চেষ্টা করেন। তার ফলে সামাজিক দূরত্ব নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এই নিয়ে কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে। মানুষের তরফে থেকে বারবার লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠছে। সেটা তখনই সম্ভব যখন রাজ্য সরকারের তরফে একটা রূপরেখা দেওয়া হবে। তার জন্য রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই আরও একবার রেলের তরফে বৈঠকের আবেদন করা হচ্ছে।
এই দুটি চিঠির কথা উল্লেখ করে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “এটা বোঝা যাচ্ছে যে মমতা সরকার ইচ্ছে করেই লোকাল ট্রেন চালু করছেন না বাংলায়। যতদিন না রাজ্য সরকার অনুমতি দিচ্ছে ও অন্যান্য সাহায্য করছে ততদিন রেলমন্ত্রক ট্রেন পরিষেবা চালু করতে পারবে না। কিন্তু নবান্নের তরফে কোনও বৈঠকই ডাকা হচ্ছে না। মানুষের সঙ্গে ছলনা করা হচ্ছে।”
https://twitter.com/swapan55/status/1316967095117238273
সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ভাবে দাবি উঠতে শুরু করেছে, লোকাল ট্রেন চালানো শুরু করা হোক। নাহলে বিস্তর দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। রেলকর্মী ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের যাতায়াতের জন্য হাতে গোনা নির্দিষ্ট সংখ্যায় লোকাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে সাধারণ যাত্রীদের ওঠা নিষিদ্ধ। বিশেষ ট্রেনে সাধারণ মানুষ উঠলে আরপিএফ বা জিআরপি তাঁদের নামিয়ে দিচ্ছেন। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে সোনারপুর, হুগলি এবং লিলুয়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে গিয়েছিল। লিলুয়া স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় জনতা।
মার্চের ২৫ তারিখ থেকে বন্ধ লোকাল ট্রেন পরিষেবা। আনলক পর্বের শুরু থেকে ধাপে ধাপে দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও সাধারণের জন্য লোকাল ট্রেন আপাতত কারশেডেই আটকে। মেট্রো চলাচলও শুরু হয়েছে। কিন্তু লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় রাজ্য সরকারকেই দুষলেন বিজেপির রাজস্যভার সাংসদ।