
শেষ আপডেট: 3 November 2018 13:04
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরে রাজ্য জুড়ে রথযাত্রা শুরু করছে রাজ্য বিজেপি। তারাপীঠ , কোচবিহার এবং গঙ্গাসাগর থেকে শুরু হবে তিনটি পৃথক রথযাত্রা। তিনটি যাত্রারই সূচনা করবেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। টানা দেড়মাস বাংলার আলপথ থেকে রাজপথ ঘুরে সেই রথযাত্রা শেষ হবে ব্রিগেডের মহা সমাবেশে। সেখানে ভাষণ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপি নেতারা ময়দানে নেমে পড়েছেন। দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, সায়ন্তন বসুরা জেলায় জেলায় চষে বেড়াচ্ছেন। সেই রথযাত্রাকে চ্যালেঞ্জ করতেই ফোঁস করে উঠলেন বাবুল।
আরও পড়ুন: তিন হাজার কোটির মূর্তি, আর বাঙালি মেরে ফূর্তি: তিনসুকিয়া নিয়ে ফুটছে তৃণমূল
আসানসোলের সাংসদ টুইটে লেখেন, “ববি হাকিম, শুভেন্দু বা মমতাদি নিজে বললে তাও বুঝতাম। ওরা সিপিএমের সাথে লড়াই করে জিতেছিল! ছোট্ট ভাইটির তো #PishirBhaipo হয়ে সিংহাসনে বসা আর 'বিশেষ কাজে' বিশেষ ' হাতজশ ' ছাড়া আর টাকা ছাড়া আর কোনো যোগ্যতা নেই।” অপর একটি টুইটে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী লেখেন, “এতই যদি ক্ষমতা তো কলকাতার বুকে বাড়ির চারিদিকে এত পুলিশের ঘেরাটোপ কেন? কেন কালো কাচের গাড়িতে ঘোরো ভাইটি? কিসের এত ভয় বাঙালি/বাংলার মানুষকে যে, মোবাইল জ্যামার লাগিয়ে, ১০ টা পুলিশ-এর গাড়ি নিয়ে ঘুরতে হয়? আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে সারা বাংলা ঘুরে বেড়াই।"
যুব তৃণমূল সভাপতি বা তাঁর ঘনিষ্ঠ কোনও নেতা অবশ্য এ দিন বাবুলের মন্তব্যের পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে সাধারণ ভাবে অভিষেক এখন বিজেপি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক। এমনকী এও বলছেন, তিনি দিদির মতো উদার নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি পেলে তিনি বাংলায় বিজেপি-র 'বি'-ও থাকতে দেবেন না, দিলীপ ঘোষের 'ডি'-ও নয়।
অনেকেই বলেন, বাবুল ভীষণ ঠোঁটকাটা। সে দলের ভিতরেই হোক বা বাইরে। এই তো মাস দুয়েক আগে একবার এক যুবক টুইটারে বাবুলকে টিপ্পনি কেটেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে। তুরন্ত জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন হৃত্বিক রোশনের ডেবিউ ফিল্মের টাইটেল ট্র্যাকের গায়ক। বলেছিলেন, “ওই দিন দিদির সঙ্গে ঝলুড়ি না খেলে ইস্ট-ওয়স্ট মেট্রো হতো না।” শুধু তো তাই নয়, মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠে নরেন্দ্র মোদীর সভার দিন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেই তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন প্রকাশ্যে। এ বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জবাব দিলেন একেবারে কড়া ভাষায়। সেই সঙ্গে মমতা, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারীদের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে রাজনৈতিক কৌশলও খেলে রাখলেন।