দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেক সেক্টর ফাইভের তথ্যপ্রযুক্তি পাড়া খাঁখাঁ করছে। লকডাউনে ব্যস্ততা নেই বিকাশ ভবন, করুণাময়ী চত্বরে। লকডাউনের নিস্তরঙ্গ সেই লবণ হ্রদে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক ঢেউ খেলে গেল। করোনার ত্রাণ বিলি করায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত। সল্টলেকের প্রাক্তন মেয়রের সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিধাননগর উত্তর থানা।
কী অভিযোগ রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়কের?
সোমবার সন্ধেবেলা সব্যসাচীবাবু সাংবাদিকদের বলেন, "রবিবার আমি দত্তাবাদের মানুষদের চাল-আলু-চিনি দিয়েছি। আজ গেছিলাম সুকান্ত নগরে। সেখান থেকে সবে বাড়িতে ঢুকেছি, ওমনি পুলিশের ফোন!" তাঁর অভিযোগ, "ফোন ধরতেই ওদিক থেকে বলা হয় বিধাননগর উত্তর থানার আইসি কথা বলছেন। তিনি আমায় বলেন, 'আপনি যা করছেন ঠিক করছেন না। বন্ধ করে দিন। সিপির (পুলিশ কমিশনার) নির্দেশে আপনাকে ফোন করছি। এটা বন্ধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' আমি তখন বলি, আমি বাড়িতে চলে এসেছি। আর কোনও অপরাধ তো করিনি। মানুষকে একটু চাল-আলু-চিনি দিয়েছি।" প্রাক্তন তৃণমূল নেতার অভিযোগ, পুলিশ হুমকি দিয়েছেন তাঁকে।
এ ব্যাপারে বিধাননগর উত্তর থানার আইসি সোমদেব বন্দ্যোপাধ্যয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি ফোন করে ওঁকে বলেছি, একসঙ্গে অনেকে জড়ো হয়ে উনি যেটা করেছেন সেটা লকডাউনের বিরুদ্ধ। আমি এও বলি, আপনি নিজের বিধানসভা এলাকার বাইরে এসে এটা করছেন। মানুষকে কিছু দেওয়ার থাকলে পুলিশকে বলুন, পুলিশ পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।"
যদিও সব্যসাচীর বক্তব্য, তিনি মোটেও লোকলস্কর জড়ো করে ত্রাণ দেননি। তিনি আর তাঁর স্ত্রী ছিলেন শুধু। তিনি আরও বলেন, রবিবার যে ছেলেরা দত্তাবাদের ত্রাণ বিলিতে সাহায্য করেছিল, তাদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ গিয়ে অত্যাচার করছে। এই অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই মুখে বলুন এই সময়ে রাজনীতি করবেন না, কাজে কিন্তু উনিই সবচেয়ে বেশি রাজনীতি করছেন। আমাদের নেতারা ত্রাণ দিলে পুলিশ দিয়ে আটকে দিচ্ছেন। আর নিজে যখন লোকজন জড়ো করে এ বাজার সে বাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তখন লকডাউন কোথায় যাচ্ছে?"