দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের কয়েক মাস আগে একবার জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। বঙ্গ বিজেপি-র অনেক নেতাই চেয়েছিলেন, বাংলায় ভোটে দাঁড়াক স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই জল্পনা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। শনিবার সকালে সেই জল্পনা আরও একবার উস্কে দিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বুনিয়াদপুরের জনসভা থেকে একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলেন, “গণতন্ত্র বাঁচাতে, মোদীজি আপনি বাংলা থেকে ভোটে দাঁড়ান।”
মুকুলের মুখে এমন কথা শুনে অনেকেই মনে করছেন, ব্যাপারটা নিশয়ই দলীয় স্তরে এক রকম পাকা হয়ে গিয়েছে। না হলে তাঁর মতো পোড় খাওয়া নেতা এমন প্রকাশ্য সভায় প্রধানমন্ত্রীর ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে এমন আলটপকা বলতেন না। অনেকে আবার এ-ও বলছেন, হতে পারে এটা বিজেপি-র কৌশল। তৃণমূলকে চাপে রেখে দেওয়া।
সন্দেহ নেই দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি বাংলা থেকে প্রার্থী হন, তা হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যাবে। মোদী যে কেন্দ্রেই প্রার্থী হবেন, তার আশেপাশের কেন্দ্রেও এর প্রভাব পড়বে। একটা সময় শোনা গিয়েছিল উত্তর কলকাতা থেকে প্রার্থী হবেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। আডবাণীর আসন গান্ধীনগর থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। যেহেতু বিজেপি এ বার বাংলাকে পাখির চোখ করেছে, তাই মোদী যাতে বাংলা থেকে দাঁড়ান, সেটাই চাইছে ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন।
বাংলায় দাঁড়ালে কোন আসনে প্রার্থী হবেন নরেন্দ্র দামোদরদাস? সে ব্যাপারে অবশ্য বিজেপি নেতারা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। তবে রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, শেষ দু’দফায় যে আসনগুলিতে ভোট, তার মধ্যেই কোনও একটিতে প্রার্থী হতে পারেন মোদী। রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন বারাসত আসনে বিজেপি যাঁকে প্রার্থী করেছে, সেই মৃণালকান্তি দাস এখনও সে ভাবে প্রচার শুরু করেননি। বিজেপি-র একটি সূত্রের মতে, দলের তরফেই তাঁকে প্রচারে নামতে বারণ করা আছে। তাহলে কি ওই আসনেই? সেটা অবশ্য সময় বলবে। তবে এটা পরিষ্কার শেষ দু'দফায় দক্ষিণবঙ্গে যে আসনগুলিতে ভোট, প্রার্থী হলে তার মধ্যেই কোনও একটিতে প্রার্থী হবেন তিনি।
এ দিন নিজের বক্তৃতাতেও মোদী বলেছেন, “বাংলায় বড় কিছু হতে চলেছে। সেটা বুঝতে পেরে স্পিড ব্রেকার দিদির ঘুমে ব্রেক পড়ে গিয়েছে।” ‘বড় কিছু’ বলতে মোদী নিজের ভোটে দাঁড়ানোকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন কি না তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে মোদী প্রার্থী হলে বাংলার রাজনীতি যে জমে যাবে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।