
শেষ আপডেট: 25 January 2019 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় তৃণমূলের মঞ্চে থাকতেন তিনিও। কিন্তু সম্ভাবনার খেলা রাজনীতিতে এ দিকের জল ও দিকে গড়াতে বেশি সময় লাগে না। জোড়াফুলের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল শুধুই আলঙ্কারিক। কিন্তু এখন তিনি একেবারে উল্টো শিবিরে। বিজেপি-র নেত্রী। গেরুয়া শিবিরে তিনি আর আলঙ্কারিক নন। একেবারে নেতৃত্ব স্তরে পৌঁছে গিয়েছেন অল্প সময়েই। সেই তিনিই, অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এ বার মুখ খুললেন শ্রীকান্ত মোহতার গ্রেফতারি নিয়ে। বিজেপি-র মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী বলেন, “টলিউড সিন্ডিকেটের প্রথম উইকেট পড়ল। শ্রীকান্ত মোহতাকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে টলিউডের স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হলো।”
শুক্রবার বিজেপি রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে লকেট আরও বলেন, “শ্রীকান্তের গ্রেফতারের পর বাংলা সিনেমা জগতে কাঁপুনি ধরে গিয়েছে। সবাই ভাবছে এরপর কার পালা!” অভিনয় জগত থেকে রাজনীতিতে আসা লকেট বলেন, “মোহতা শিল্পীদের একপ্রকার বাধ্য করতেন রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হতে। ইচ্ছে না থাকলেও যেতে হত। অনেকে ভয়ে ভয়ে এই কাজ করতেন।”
বৃহস্পতিবার কসবার একটি অভিজাত শপিংমলের ১৮ তলায় ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ঝাঁ চকচকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে এসে শ্রীকান্তকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এ দিন তাঁকে পেশ করা হয়েছে ওড়িশার খুরদারোড আদালতে। রোজভ্যালির মালিক গৌতম কুণ্ডুর থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিনিময়ে তাঁর সিনেমা বানানোর কথা ছিল। তা তো করেনইনি, উলটে টাকাও ফেরত দেননি। সিবিআই জানিয়েছে চিটফান্ডের টাকা ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেনানোর হোতা ছিলেন মোহতা। এর আগে একাধিকবার তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে ডেকেছিল সিবিআই। কিন্তু টলিপাড়ার নাম্বার ওয়ান প্রোডিউসার সে সবে পাত্তাই দেননি। অবশেষে তাঁর দফতরে হানা দিয়েই তাঁকে আটক করে পরে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি।
এ দিন বিজেপি রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শ্রীকান্ত মোহতাকে “ফিল্ম মাফিয়া’ বলে তোপ দাগেন। খড়্গপুরের বিধায়ক বলেন, “রাজ্যের আড়াইশর বেশি সিনেমা হল তাঁর কথায় চলে। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কিনিয়েছেন লোকজনকে। যে ছবি দশ টাকায় বিক্রি হতো না, তা কোটি টাকায় বিক্রি করতে এই লোকটাই প্রধান কারিগর।”
শ্রীকান্তকে গ্রেফতারের পরেই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূলের মহাসচিব গতকালই বলেছিলেন, “এই ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদ।” উল্টোদিকে সিপিএম, কংগ্রেস সোজা আঙুল তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। এ দিন বিজেপি-ও তাতে কিছুটা অক্সিজেন দিয়ে দিল।