দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের অশান্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে গিয়ে জায়গায় জায়গায় বাধার মুখে পড়তে হল বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। প্রথমে নবগ্রাম, তারপর মোড়গ্রামে আটকে দেওয়া হয় কৈলাসের কনভয়। শেষমেশ রণে ভঙ্গ দেন তিনি। কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে বাংলার পর্যবেক্ষক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খানও।
এদিন কৈলাস অভিযোগ করেন, “গত কয়েকদিনের অশান্তিতে মুর্শিদাবাদের বহু জায়গায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে লুঠপাট করেছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সেই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াটা অপরাধ হয়ে গেল! এটাই বাংলার গণতন্ত্রের চেহারা।” এই কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতার অভিযোগ, “পুলিশ ইচ্ছে করে জ্যাম তৈরি করে রাস্তা আটকেছে।” এই ঘটনার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও ফোনে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কৈলাস।
যেখানেই কৈলাসের পথ আটকানো হয় সেখানেই ক্যামেরা হাতে ভিডিও করেন এই বিজেপি নেতা। দেখা যায় কৈলাসের গাড়ি আটকে গো ব্যাক স্লোগান দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজনই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা ফেরার পথে ফেসবুকে লাইভ করেন কৈলাস। তাঁর কথায়, “আমার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ছিল বলেই আমি ওখান থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরেছি। আজকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে অনেক বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারত।”
এদিন কৈলাসের পথ আটকানোর ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেন, “আমি জানি না কী হয়েছে। তবে এই ঘটনা হয়ে থাকলে তা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।”
গত শুক্রবার থেকে অশান্ত মুর্শিদাবাদ। শুরু হয়েছিল বেলডাঙা, সাগরদীঘি দিয়ে। তারপর ক্রমেই তা সুতি, সামশেরগঞ্জ, রেজিনগর, কাশিমবাজার, লালগোলা-সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার কৃষ্ণপুর স্টেশনে পাঁচটি ট্রেন জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এদিন কৈলাস বলেন, “যখন দুষ্কৃতীরা ট্রেন পোড়াচ্ছে, বাস জ্বালাচ্ছে, সাধারণ মানুষের বাড়িঘর লুঠ করছে, তখন পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আটকে দেওয়া হচ্ছে।”