শেষ আপডেট: 9 June 2020 09:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশ সালে বাংলায় সঠিক সময়ে ভোট হলে মেরেকেটে আর ন'মাস হাতে রয়েছে। লকডাউনের মধ্যেই বাংলায় প্রচারের মহড়া শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিকল্প মডেল কী হবে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল জনসভা থেকে তা যেমন তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তেমনই দুর্নীতি ইস্যুতেও তৃণমূকে বিঁধলেন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি।
এদিনের ই-জনসভায় অমিত শাহ বলেন, "গর্বের সোনার বাংলায় এখন শুধুই ভ্রষ্টাচার। একদিকে নতুন কিছু করতে হলে ভাতিজা (পড়ুন ভাইপো) ট্যাক্স দিতে হয় অন্যদিকে সিন্ডিকেট রাজের রমরমা। চারিদিকে শুধু তোলাবাজি। স্কুল-কলেজে ভর্তি হতে গেলেও টাকা দিতে হয়।"
সেইসঙ্গে সারদা, নারদ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গও তোলেন কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "দুর্নীতি করতে করতে এমন জায়গায় চলে গিয়েছে মমতাদিদির দল যে, লকডাউনের মধ্যে গরিব মানুষের রেশন নিয়েও দুর্নীতি করেছে।" ভুলে গেলে চলবে না লকডাউনের মধ্যে রেশন দুর্নীতি নিয়ে শুধু বিরোধীরা নয়, স্বয়ং রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় পর্যন্ত সরব হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে টুইট করে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বলেছিলেন, "গণবন্টন ব্যবস্থায় যে দুর্নীতি হচ্ছে তা যদি এক্ষুণি বন্ধ না করা যায় তাহলে অতীতের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে যাবে।" তারপর দেখা গিয়েছিল খাদ্যসচিব বদল করে নবান্ন। রেশন ডিলারদের শোকজ করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়।
এদিন অমিত শাহ দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের পাঁচ বছর এবং প্রথম মোদী সরকারের পাঁচ বছরের তুলনা করে বোঝাতে চান, তাঁদের সরকার বাংলাকে কত অনুদান দিয়েছে। হিসেব দিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় বাংলাকে সমস্ত খাত মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল এক লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪-১৯ পর্যন্ত বাংলাকে দেওয়া হয়েছে ৪ লক্ষ ১৯ হাজার কোটি টাকা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শাহ বলেন, "এই টাকা কোথায় গেল তার হিসেব নেই।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে এদিনও তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, "যে বাংলা সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রশ্নে যুগ যুগ ধরে সারা দেশকে দিশা দেখিয়েছে, সেখানে এখন তোষণের রাজনীতি চলছে। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে বাংলার গর্ব ধুলোয় মিশেছে।"
রাজনৈতিক হিংসা নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর চড়ান শাহ। বলেন, "আগে যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর শোনা যেত, এখন সেখানে বোমা-গুলির শব্দ শোনা যায়।"
যার জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূল এদিন বলেছে, যিনি বাংলার সমাবেশী রাজনীতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন, তিনিই আবার সংস্কৃতির কথা বলছেন। ভুলে গেলে চলবে না বিদ্যাসাগরের মূর্তি সংস্কার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে মূর্তি অমিত শাহর চোখের সামনেই তাঁর লোকেরা ভেঙেছিল। বাংলার শাসকদলের বক্তব্য, "অমিত শাহ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওঁর জানা উচিত ন্যশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ রাজ্যগুলিতে বিজেপির সরকার রয়েছে। সেই তুলনায় বাংলা অনেক শান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে এসেই জঙ্গলমহলকে ঠান্ডা করে দিয়েছেন। পাহাড়ও হাসছে।"